তেলের খনির পর এবার শিল্পের জোয়ার, অশোকনগরে ফের চালু হল ঐতিহ্যবাহী কাপড় মিল

অনন্যা সরকার, উত্তর ২৪ পরগণা: গত মাসেই ওএনজিসি (ONGC)-র বাইগাছি তেলক্ষেত্র থেকে অপরিশোধিত তেলের বাণিজ্যিক উত্তোলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এবার বিশ্বকর্মা পুজোর দিন অশোকনগরবাসীরা পেলেন আরও একটি সুখবর। বহুকাল আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া অশোকনগর স্পিনিং মিল (Ashoknagar Spinning Mill) ফিরে এল নয়া অবতারে। এখন এটির নাম ‘অশোকনগর ইন্টিগ্রেটেড টেক্সটাইল পার্ক’ (Ashoknagar Integrated Textile Park)। বহু বছরের নীরবতা ভেঙে সুতো কাটার যন্ত্রগুলো আবার সশব্দে চলতে শুরু করেছে, তৈরি হচ্ছে কাপড়। এক বেসরকারি সংস্থার অশোকনগরে এই বহু পুরোনো কাপড়ের মিলের জমিতে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। 

ফিরে এল পুরোনো স্মৃতি

অশোকনগর স্পিনিং মিল ছিল কল্যাণী স্পিনিং মিলের দ্বিতীয় ইউনিট। স্বাধীনতার পর সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এই কাপড়ের মিলটি। একটা সময় ছিল যখন সকালে এই কারখানাটি এলাকার প্রাণকেন্দ্র ছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে কারখানাটি সংকটের মুখে পড়ে এবং একসময় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এই মিলের কর্মীদের অন্যান্য সরকারি বিভাগে বদলি করে দেওয়া হয়। যদিও পূর্বতন সরকার এই জায়গায় ‘অশোকনগর ইন্টিগ্রেটেড টেক্সটাইল পার্ক’ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করে, কিন্তু অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও এর বাস্তবায়ন চোখে পড়েনি। 

অবশেষে, বহু বছরের অপেক্ষা শেষে  সরকারের বরাদ্দ করা জমিতে, বন্ধ হয়ে যাওয়া স্পিনিং মিলের প্রাঙ্গণের ভেতরে বিশ্বকর্মা পুজোর শুভ লগ্নে ভ্যারিয়েট ডিট্যাক্স প্রাইভেট লিমিটেড (VDL) নামে একটি বেসরকারি সংস্থা তাদের কার্যক্রম শুরু করলো। অত্যাধুনিক জার্মান প্রযুক্তির যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত কারখানাটির উদ্বোধনের জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় শুক্রবার। এই অনুষ্ঠানে কোম্পানির ডাইরেক্টর ডঃ লক্ষ্মীকান্ত কর এবং মিলন দত্ত, প্রধান অতিথি হিসেবে সমাজকর্মী রিঙ্কু মুখার্জি ঘোষ সহ ওই অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: খরচ কয়েক কোটি, ভোল বদলে যাবে হাওড়া স্টেশনের দুই সাবওয়ের! বসবে চলমান সিঁড়ি

কারখানার ম্যানেজার তপন মাইতি এবং টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ পার্থসারথি ঘোষাল জানিয়েছেন যে, বাংলায় এই প্রথম অত্যাধুনিক জার্মান যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টসওয়্যার, অটোমোটিভ টেক্সটাইলজি, কিডসওয়্যার এবং সিঙ্গেল ও ডাবল জার্সি নিটের মতো উচ্চমানের টেকনিক্যাল ফেব্রিক উৎপাদন করা হবে এই কারখানায়।  রাজ্যের যুবকদের কর্মসংস্থানের সন্ধানে আর যেন ভিনরাজ্যে যেতে না হয়, এটাই কোম্পানির অন্যতম লক্ষ্য। তাদের আশা এই উদ্যোগটি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘পাওয়ার ইন বেঙ্গল’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে। এখানে উৎপাদিত কাপড় রাজ্য ও দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: যাত্রার আগে বদলাতে পারবেন ট্রেনের সিট, ১৩ বছরের শিরিন তৈরি করল ‘CoSeat’ প্ল্যাটফর্ম

বর্তমানে এই কারখানায় প্রায় ৫০ জন প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত কর্মী নিযুক্ত আছেন। এই কর্মীদের মধ্যে অনেকেই অশোকনগর, মছলন্দপুর, হাবড়া, ও পার্শ্ববর্তী নদিয়া জেলার বাসিন্দা। ফলে, এই নতুন শিল্প উদ্যোগের সুফল ইতিমধ্যেই স্থানীয় অধিবাসীরা পেতে শুরু করেছেন। একটা সময় যে শিল্পাঞ্চলের চরকা কলে কাজ করে হাজার হাজার মানুষের সংসার চলতো, সেখানেই এখন নতুন সংস্থা ও তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ – নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

Leave a Comment