সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval) সম্প্রতি আইআইটি রুরকির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গিয়ে তাঁর কর্মজীবনের একেবারে শুরুর একটি আবেগঘন ঘটনা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি জানান, কীভাবে চিনা সেনাবাহিনীর কার্যকলাপ সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁর দলের সদস্যরা উধাও হয়ে গিয়েছিল। এমনকি শুরুতেই কর্মজীবন শেষ হয়ে যাওয়ার ভাবনার সেই স্মৃতিচারণ এদিন করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
কেমন ছিল অজিত ডোভালের জীবনের সেই দিন?
এদিন ডোভাল ছাত্রদের তাঁর যৌবনকালের ওই ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, “আমি তখন একজন তরুণ আইপিএস অফিসার এবং গোয়েন্দা কাজে সবে নিযুক্ত হয়েছি। আমার বয়স তখনও কুড়ির কোটায় এবং আমি সিকিমের গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বে ছিলাম। সেই সময় আবার সিকিম ভারতের অংশ ছিল না। কিন্তু ভারতের অংশ হওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। সিকিমকে ভারতের সঙ্গে একিভূত করার প্রক্রিয়ায় আমিও একজন সদস্য ছিলাম। তবে আমার দায়িত্বের মধ্যে ছিল সীমান্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ করা এবং পিএলএ-র গতিবিধি এবং চিনা সেনাবাহিনীর কার্যকলাপ সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা।”
তিনি বলেন, “আমাদের একটি গোয়েন্দা দলকে সীমান্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছিল এবং প্রায় ৮ দিন পর তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু দিন গড়িয়ে গেলেও দলটি আর ফিরে এল না। প্রথমে ৫ দিন, তারপর ১০ দিন এবং এরপর প্রায় ১৫ দিন কেটে যায়। এই সময় আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। কারণ, এটি শুধুমাত্র আমার পেশাগত পর্যায়ের দিক থেকে ছিল না, বরং মানবিক পর্যায়েও ছিল। কারণ, আমি জানতাম না যে অভিযানের দলটি আদৌ বেঁচে আছে কিনা। এমনকি কোনও তুষার ধস বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবরও আমার কাছে ছিল না। ফলে আমার উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে।”
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনা না পেয়ে ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটালেন মহিলারা, জলপাইগুড়িতে তুলকালাম
তিনি আরও জানান, “আমি সদর দফতর থেকে একটি ফোন পাই। আমার বস আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে তুমি কি কিছু লোক পাঠিয়েছ? আমি বললাম, আমি জানি না। ওরা নিশ্চয়ই আসছে। ওদের ৫-৬ দিনের মধ্যে আসার কথা ছিল। কিন্তু এখন প্রায় ১০-১১ দিন হয়ে গিয়েছে।” পরে এক কর্মকর্তা তাঁকে জানান যে, ওই সদস্যরা চিনাদের হেফাজতে রয়েছেন। এমনকি চিনা সৈন্যরা তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমে এক ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরিত করেই তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়। যখন তারা ফিরে আসে, তখন তাদের অবস্থা খুব খারাপ ছিল এমন তারা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল।