অনন্যা সরকার, কলকাতা: যে কাজ এতদিন ভারতীয় রেল (Indian Railways) করতো, সেই দায়িত্ব এবার পালন করবে ভারতীয় ডাক (India Post)। এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)। শোনা যাচ্ছে যে, রাজ্যের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে উচ্চমাধ্যমিক (Higher Secondary) পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র বা ওএমআর (OMR) শিটগুলো ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিকটস্থ ডাকঘরে পাঠানো হবে। সেখান থেকে উত্তরপত্রগুলো সংসদের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
উচ্চ মাধ্যমিকের উত্তরপত্র সরবরাহের দায়িত্বে এবার ভারতীয় ডাকঘর
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (West Bengal Council of Higher Secondary Education) জানিয়েছে যে, ২০২৭ সালের উচ্চ মাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতার সাথে সম্পন্ন করা যায়, তা নিশ্চিত করার জন্যই এবার রেলের বদলে ডাক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে সংসদ। এছাড়াও জানা গেছে যে, উত্তরপত্রগুলো যান্ত্রিক পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে। তাই মনে করা হচ্ছে যে, সিবিএসই (CBSE)-র দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়নে ব্যবহৃত অন-স্ক্রিন মার্কিং বা ওএসএম (OSM) পদ্ধতির মতোই কোনো পদ্ধতি এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতে পারে।
উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টার শুরু হচ্ছে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর। পরীক্ষা চলবে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত কেন্দ্রগুলিতে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ সকাল ১০টার মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছর থেকেই রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সেমিস্টার-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হয় এবং আসন্ন তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষাটি ওএমআর (OMR) পদ্ধতিতে নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আদালতে তোলা হল অভিষেকের আপ্তসহায়ককে, ফের হেফাজতে নিতে পারে সিআইডি
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফে জানানো হয়েছে যে, এ বছর মোট ৭,১৮,৬২০ জন পরীক্ষার্থী তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৪,০২,৮৮৯ জন, অর্থাৎ ৫৬.০৬% ছাত্রী এবং ৩,১৫,৭৩১ জন, অর্থাৎ ৪৩.৯৪% ছাত্র। রাজ্যজুড়ে মোট ২,১০৫টি কেন্দ্র এবং ৮২৫টি মূল পরীক্ষা কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি কেন্দ্রকে ‘সংবেদনশীল’ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। যতদিন পরীক্ষা চলবে, ততদিন ওই পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মূল প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশিও চালানো হবে। এছাড়া প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র সারাক্ষণ সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার নজরদারির ভিতরেই থাকবে। এছাড়া, প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য অন্তত দুজন করে পরিদর্শককে (Invigilator) নিযুক্ত করা হবে।
আরও পড়ুন: ঘাটতি নয়, জোগানে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর বাংলা! এবার NTPC-কে কয়লা বিক্রি করছে সরকার
এছাড়া, পরীক্ষা চলাকালীন মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটরের মতো কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার অনুমতি নেই। কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে এইধরনের ডিভাইস পাওয়া গেলে, তার পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এছাড়াও সংসদের তরফে জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের মূল্যায়ন করবেন না। এই কাজটি সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তি ও ওএমআর স্ক্যানিং মেশিনের মাধ্যমে করা হবে।