পুরোহিত ডেকে তৃণমূলের প্রতীক ‘জোড়াফুলের শ্রাদ্ধ’, চরম শোরগোল কাটোয়ায়

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রতীক এবং দলের নাম হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) প্রায় নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন। নিজের হাতে তৈরি করা দলের প্রতীকটি ২৮ বছর পর সম্পূর্ণ ভেঙে গেল। আর তাই দেখে রীতিমত হাসছে শাসকদল বিজেপি। এমতাবস্থায় পূর্ব বর্ধমানে (Purba Bardhaman) জোড়াফুলের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করলেন বিজেপি কর্মীরা (BJP Workers)। পুরোহিত ডেকে রীতিমত শ্রাদ্ধের প্রচলিত নিয়ম মেনে সমস্ত কাজ করা হয়। ইতিমধ্যেই ভাইরাল সেই ছবি।

তৃণমূলের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান

রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। সেখানে গতকাল, রবিবার, কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের মেজিয়ারিতে দলের কার্যালয়ে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা গিয়েছে পাশাপাশি দুটি চেয়ারের মধ্যে একটিতে জোড়াফুল প্রতীকের ছবি এবং তাতে জুতোর মালা পরানো। আরেকটি চেয়ারে কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের কপি, সামনে ফুল রাখা। পুরোহিত ডেকে রীতিমতো ধুমধাম করে সেই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করা হয়েছিল।

কী বলছেন বিজেপি সভাপতি?

তৃণমূলের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন প্রসঙ্গে বিজেপির কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের সভাপতি সূর্যদেব ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারতের রাজনীতি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অকাল প্রয়াণ হয়েছে তাই আমরা আমাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে একটি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের কপিটিকে পুজো করি।” তবে এই ঘটনা শুধু বর্ধমানে ঘটেনি, বসিরহাটেও ঘটেছে। জানা গিয়েছে, সেখানকার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের সাণ্ডেলেরবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের আমবেড়িয়া এলাকায় বিশ্বকর্মা পুজোর দিন তৃণমূলের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ৬০০০ রোগীর বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা, কথা রাখলেন তরুণজ্যোতি

স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের দাবি, “জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরেই আমরা এই প্রতীকটির ‘শ্রাদ্ধ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। অনুষ্ঠানে পুরোহিত ডেকে শ্রাদ্ধের প্রচলিত রীতিনীতি মেনে আয়োজন করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেলেও বিজেপি কর্মীদের এহেন রসিকতায় আবার অনেকে মজাও পেয়েছেন।

Leave a Comment