৫ মাস ধরে মেলেনি বেতন, জ্বরে মৃত্যু হল নির্মলসাথীর, বিতর্ক হুগলির চুঁচুড়ায়

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মেলেনি পাঁচ মাসের বেতন, শেষে আর্থিক অনটন ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিয়ে দিনযাপন করতে করতেই জ্বরে মৃত্যু হল বছর ৪৪ এর হুগলির (Hooghly) চুঁচুড়া পুরসভার (Chinsurah Municipality) নির্মলসাথী হীরা সাধুখাঁর। তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে হুগলিতে। জানা গিয়েছে, রবিবার ভোরে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তোলাফটকের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন না মেলায় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন হীরা।

ঠিক কী ঘটেছিল?

রিপোর্ট অনুযায়ী, হুগলির চুঁচুড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তোলাফটকের বাসিন্দা ছিলেন বছর ৪৩-র ‘নির্মলসাথী’ হীরা সাধুখাঁ। স্বামী লক্ষ্মণ সাধুখাঁ সামান্য মজুরিতে শ্রমিকের কাজ করেন। দুই ছেলে কলেজে পড়েন। সহকর্মীদের দাবি, বিগত ৪-৫ মাস ধরে তাঁরা বেতন পান না। ফলে সংসারের ন্যূনতম খরচটুকুও চালানোর জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়েছিল। মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন তিনি কিন্তু কাজে যাওয়া বন্ধ করেননি তিনি। এমতাবস্থায় গত শুক্রবার শনিবারও জ্বর নিয়েই কাজ করেছিলেন তিনি। কিন্তু অবস্থার অবনতি হয় রবিবার, ওইদিন ভোর ৬টা নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার।

ক্ষুব্ধ পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা

দিন দশেক আগে হীরা দেবীর শাশুড়ি আরতি সাধুখাঁর মৃত্যু হয়েছিল। এখনও শ্রাদ্ধের কাজ মেটেনি, এরই মধ্যে মৃত্যু হয় হীরার মৃত্যু হওয়ায় শোকাহত পরিবারের সদস্যরা। এদিকে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুরসভার অস্থায়ী কর্মী-সহ তাঁর সহকর্মীরা ওই বাড়িতে আসেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরাও। এক নির্মলসাথীর কথায়, ‘হীরা বার বার বলছিল, পাঁচ মাসের টাকা পাই। দু’মাসের টাকা দেবে বলল। টাকা এসেও গিয়েছে, তবু কেন দিচ্ছে না? শাশুড়ির কাজ, টাকা না দিলে হয়?’ এদিন তাঁর মৃত্যুতে ফের বকেয়া মেটানোর দাবি তুললেন ওই পুরসভার অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মীরা। যদিও পুর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও মেলেনি।

আরও পড়ুন: পুরোহিত ডেকে তৃণমূলের প্রতীক ‘জোড়াফুলের শ্রাদ্ধ’, চরম শোরগোল কাটোয়ায়

২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিধায়কের নিযুক্ত কো-অর্ডিনেটর বিজেপির অর্ণব রায়চৌধুরী জানান, “যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। তবে মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি ঠিক নয়। আর রাজ্যের প্রতিটি পুরসভাতেই মাইনে নিয়ে জট হয়ে রয়েছে, আগের সরকার এর জন্য দায়ী।” এছাড়াও তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি পুর কর্মীদের বকেয়া টাকার মধ্যে দু’মাসের মাইনে সুডা থেকে এসে গিয়েছে। কেন পুরসভা থেকে রিলিজ করা হলো না? তাঁরা কি ইচ্ছাকৃত মাইনে আটকে রেখে বিষয়টাকে জটিল করতে চাইছেন, সেটাও জানি না। সবটাই দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রাক্তন তৃণমূল পুরসদস্য দিব্যেন্দু অধিকারীর দাবি, ‘‘আমাদের আমলে কখনও এত মাসের বেতন বকেয়া থাকেনি।”

Leave a Comment