সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রতীক এবং দলের নাম হাতছাড়া হলেও এবার বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এর আগে ফ্রিজ হওয়া তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। কার্যত নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে গুরুত্বই দিল না রাজ্যের উচ্চ আদালত। দলীয় তহবিলের অধিকার মমতার তৃণমূলের কাছেই থাকবে আপাতত। সোমবার এমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
দলের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে মমতার তৃণমূল
প্রসঙ্গত, তৃণমূল দুইভাগে বিভক্ত হওয়ার পর আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মমতা কিংবা ঋতব্রত শিবির, কেউই আগের জোড়াফুল প্রতীক এবং অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম ব্যবহার করতে পারবে না। যদিও এটি অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত। উপনির্বাচনের পর ঠিক হবে, আসল তৃণমূলকে বা দলের প্রতীক আসলে কোন শিবিরের পক্ষে যাবে। তবে সেই অবস্থায় কালীঘাট তৃণমূলের তরফ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলা গ্রহণযোগ্য নয় বলেই রাজ্যের তরফ থেকে দাবি করেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে কোনও দল নেই। ওই দলের নাম এবং প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে, এমনটাই দাবি ছিল রাজদীপের।
তবে কমিশনের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ইসিআই চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। উপনির্বাচনের জন্য তড়িঘড়ি শুধুমাত্র তৃণমূলের নাম এবং প্রতীক নিয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে। তাই কমিশনের ওই অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর তহবিল নিয়ে আপাতত আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। ২০২৭-র ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তহবিল থেকে টাকা খরচের অধিকার সম্পূর্ণ মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের হাতেই থাকবে।
আরও পড়ুন: বাংলার এই পুরনো রুটে ফের চলবে ট্রেন, ২৪ বছর পর বসছে লাইন, ২০০০ কোটি বরাদ্দ রেলের
উল্লেখ্য, অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে একটি বেসরকারি ব্যাংকে থাকা তৃণমূলের মোট তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল পুলিশ। তা নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনা করার জন্য একজন স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করেন। আদালত জানিয়েছিল, আপাতত ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ কালীঘাট তৃণমূলের থাকবে। তবে সমস্ত হিসাব আদালতকে জানাতে হবে। শুধুমাত্র দৈনিক কাজকর্ম এবং কর্মীদের বেতনের জন্য খরচ চালাতে পারবে তৃণমূল। আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্তই এই নির্দেশ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছিল হাইকোর্ট। সেই রায়ই সোমবার ফের বহাল রাখলেন বিচারপতি ভট্টাচার্য।