“নরখাদকের পাল্লায় পড়ে…” নাম না করে মমতাকে নিশানা? বিস্ফোরক কাকলি

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন (West Bengal Bypoll 2026)। হাতে সময়ও খুব কম, তাই ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে নির্বাচন প্রচার নিয়ে নানা ব্যস্ততা চলছে। এদিকে কিছুদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের (All India Trinamool Congress) নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কালীঘাটপন্থী দলের নাম রাখা হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ঋতব্রতপন্থী দলের নাম রাখা হয়েছে, ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’। যদিও এখনও থামেনি এই নিয়ে বিতর্ক। এমতাবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে (Mamata Banerjee) ‘নরখাদক’ বলে নিশানা করলেন বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)।

চিকিৎসক আল্ট্রাসাউন্ড এর সঙ্গে ছবি কাকলির

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল সোমবার, NCPI সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পেজ থেকে একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন। সেই ছবিতে তাঁকে রানী এলিজাবেথের ব্যক্তিগত চিকিৎসক, আল্ট্রাসাউন্ড এর সঙ্গে দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “আমি গর্বিত, কৃতজ্ঞ কিংবদন্তি, বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম প্রথিতযশা চিকিৎসক রানী এলিজাবেথ এর ব্যক্তিগত চিকিৎসক, আল্ট্রাসাউন্ড এর আবিষ্কর্তা প্রফেসর স্টুয়ার্ট ক্যাম্পবেল এর কাছে আল্ট্রাসাউন্ড শিখতে পেরে।” এখানেই শেষ নয় পূর্বতন সরকার তৃণমূল কংগ্রেসকেও তুলোধোনা করে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন NCPI সাংসদ।

মমতাকে নিশানা করলেন কাকলি

তৃণমূল বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার আরও বলেন, “আল্ট্রাসাউন্ড এর আবিষ্কর্তা প্রফেসর স্টুয়ার্ট ক্যাম্পবেল এর সাথে কাজ করতে করতে PhD র সুযোগ হাতছাড়া করে একজন নরখাদকের পাল্লায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের কাজের ক্ষতি করে আজ অনুতপ্ত। যত অশিক্ষিত, ছোটলোক ১০ পাস করা নিকৃষ্ট লোকের সাথে ভুলভাল কাজ করে চুরি জোচচুরি করে শেষ করল নিজেকে ও রাজ্য টাকে।” সরাসরি তিনি কাউকে টার্গেট না করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি ‘নরখাদক’ বলতে এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বলা হয়েছে। আর তাই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমত শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।

আরও পড়ুন: পদ খারিজের ভয়? অভিষেকের প্রশ্নের জবাব দিতে আরও ৪ সপ্তাহ সময় নিল ২০ NCPI সাংসদ

এর আগেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর এবং বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর অভিযোগ ছিল, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রাজ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চলচ্চিত্র শিল্প-সহ একাধিক ক্ষেত্র কার্যত ভেঙে পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সন্তোষজনক ছিল না। সরকারি আধিকারিকদের ওপর নির্দিষ্ট কিছু নেতৃত্বের ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ করার জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এটা কোনও রাজ্যের উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নয়।” এমনকি ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের তৃণমূলের ভয়াবহ হারের অন্যতম কারণ হিসেবে মমতাকেই দায় করেছিলেন।

Leave a Comment