প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মায়াপুর ইসকনকে (Mayapur ISKCON) নিয়ে এবার বিরাট পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিজেপি সরকার। তবে শুধু মন্দির নয়, ঐতিহাসিক নবদ্বীপ শহরকেও এবার ‘স্মার্ট সিটি’ (Nabadwip Smart City Plan) হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। কৃষ্ণনগরের তীর্থস্থানগুলির মধ্যে অন্যতম মায়াপুর। প্রায় প্রতিদিনই এই মন্দিরকে ঘিরে পুণ্যার্থীদের ঢল নামতে দেখা যায়। কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও মায়াপুরে গিয়েছিলেন। তাই এবার সেই তীর্থক্ষেত্রকে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিতে এবং মায়াপুরের সামগ্রিক উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নিতে চলেছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
মায়াপুরে বৈঠক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার, মায়াপুরের সামগ্রিক উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে প্রশাসনিক বৈঠক করতে ইসকন মায়াপুরে গিয়েছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানকার লোটাস ভবনে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল এবং তাতে যোগ দিয়েছিলেন নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী, নদিয়ার জেলা শাসক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, কেএমডিএ-এর CEO নিতিন সিংহানিয়া, দপ্তরের যুগ্ম সচিব সুপ্রিয় অধিকারী, মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেট-এর শীর্ষ আধিকারিকরা এবং ইসকনের প্রতিনিধিরা। জানা গিয়েছে মন্দিরের আধুনিকীকরণ নিয়ে নানারকম আলোচনা হয়েছিল সেখানে।
মন্দির নিয়ে নয়া ভাবনা অগ্নিমিত্রা পালের
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “ইসকন মন্দির সংলগ্ন ৭০০-৮০০ একর জমি এবং পার্শ্ববর্তী সমগ্র টাউন এলাকাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের তীর্থক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঠিক যেভাবে কলকাতার কলেজ স্ট্রিট বা ট্যাংরা চিনা টাউনকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, সেই আদলেই দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সুবিধার্থে মায়াপুরকে আধুনিক পরিকাঠামোয় সাজানো হবে।” এছাড়াও রাজ্যের নির্বাচিত পাঁচটি স্মার্ট সিটির মধ্যে নবদ্বীপকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: নামতে পারবেন না সমুদ্রে, বেড়া দিয়ে ঘেরা হল মন্দারমণি, ‘রেড জোন’ ঘোষণা প্রশাসনের
নবদ্বীপকে বানানো হবে ‘স্মার্ট সিটি’
পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান যে, নবদ্বীপকে স্মার্ট সিটি বানানোর জন্য বাড়ি নজর দেওয়া হবে উন্নত মানের রাস্তাঘাট, আধুনিক আলোকসজ্জা, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা, সুসংহত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ওপর। এছাড়াও ভাগীরথীর তটে নতুন ঘাট নির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি। দ্রুত এই উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করতে জাতীয় স্তরের খ্যাতনামা সিটি প্ল্যানার ও স্থপতিদের নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। জানা গিয়েছে, জাতীয় স্তরের দক্ষ প্ল্যানার ও আর্কিটেক্টদের দিয়ে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হবে। যদিও এলাকাটি পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীনস্থ, কিন্তু যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই উন্নয়ন সম্পন্ন হবে বলে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আশ্বস্ত করেছেন।