অনন্যা সরকার, কলকাতা: ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের সময় নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁজরের হাড় এবং পায়ে আঘাত লাগা নিয়ে পুনরায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) একটি মেডিকেল রিপোর্ট সামনে এনে দাবি করেছেন যে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পা ভাঙার দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়ো ও নাটক ছিল। এই ঘটনা নিয়ে তাই নতুন করে তদন্ত হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে চলছে তোলপাড়। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরগরম শাসক এবং বিরোধী শিবির। এই আবহেই এবার মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুনাল ঘোষ (Kunal Ghosh) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঘাত পাওয়া পায়ের ছবি প্রকাশ করে দীর্ঘ পোস্টে সমস্ত অভিযোগকে নস্যাৎ করলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঘাতপ্রাপ্ত পায়ের ছবি প্রকাশ
বেলেঘাটার বিধায়ক কুনাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন এবং তার সাথেই ২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঘাত পাওয়া পায়ের ছবিও শেয়ার করেছেন। পোস্টে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে কুনাল ঘোষ বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের এই জখমকে কেন্দ্র করে শুভেন্দু অধিকারী যে রাজনীতি করছেন তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং রুচিহীন। কারুর ব্যক্তিগত আঘাত নিয়ে কুৎসা ও অপুর প্রচার করা অত্যন্ত আপত্তিজনক। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লেগেছিল। তাঁর চিকিৎসা যাঁরা করেছিলেন, তাঁরা সবাই তা জানেন বলে দাবি করেন কুনাল।
পোস্টে বিধায়ক আরও লিখেছেন যে, “সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন হাতে আছে বলে যে কোনো বিকৃত প্রচার করা ঠিক নয়। শুভেন্দুর বোঝা উচিত, ভাঙলে তবু জোড়ে বা সারে। কিন্তু নরম টিস্যু, মাসল আর হাড়ের উপর গভীর আঘাত সারা কঠিন। এখনও মমতাদির পায়ে ফোলা অংশ স্বাভাবিক নয়।” কুনাল ঘোষের দাবি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের চোট সারেনি। উপনির্বাচনের আগে পুরনো কথা তুলে এনে তাই এই অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত নিন্দনীয়।
আরও পড়ুন: “২০২১-এ মমতার পা ভাঙেইনি!” ৫ বছর পর পিজির রিপোর্ট নিয়ে নন্দীগ্রামে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর
বেলেঘাটার বিধায়ক তাঁর পোস্টে এও দাবি করেছেন যে, “মমতাদিকেই যে বিজেপি আসল প্রতিপক্ষ ভাবে এবং তাদের শয়নে স্বপনে জাগরণে মমতাদিকেই দেখে, সেটা আবার প্রমাণিত।” এছাড়াও তিনি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এবং ডাক্তারদের কর্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, “চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠান কখনও কারুর ব্যক্তিগত চিকিৎসাতথ্য বাইরে আনার রীতি নেই, সরকার সেটাও যেন মনে রাখে। রাজনীতিকে আর কত নিচে নামাবে এরা? মমতাদির পায়ের সেই ভয়ংকর আঘাত নিয়ে নোংরামি চূড়ান্ত আপত্তিকর”।