প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চোর ডাকাত ভুলে এবার পাঁঠার ভয়ে কুপোকাত গ্রামবাসী। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর যে কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন গ্রামের মানুষজন। শুনতে অবাক লাগলেও এমনই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় (Katwa)। একটি ১৫ কেজি ওজনের শক্তিশালী পাঁঠার আতঙ্কে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা (Katwa villagers scared of goat)। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার সাহস জুগিয়ে নিজেরাই ময়দানে নামলেন।
কালুর দাপটে আতঙ্কিত গ্রামবাসী
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ায় বিগত কয়েকদিন ধরে একটি ১৫ কেজি ওজনের তাগড়াই পাঁঠার আতঙ্কে নাকানি চুবানি খাচ্ছে গ্রামবাসী। জানা গিয়েছে, ওই পাঁঠার নাম ‘কালু’। ২ নম্বর ব্লকের জগদানন্দপুর পঞ্চায়েতের ঘোড়ানাশ ও মুস্থুল গ্রামে ঘোরাঘুরি করে এবং মানুষ দেখলেই হামলা করে। গত কয়েক দিনে অন্তত ২৫ জনকে গুঁতিয়ে জখম করেছে এই পাঁঠা। গুরুতর অবস্থায় এক বৃদ্ধা এই মুহূর্তে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও শিশুরা এতটাই আতঙ্কিত যে সন্ধ্যা নামলেই রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে নিমেষে। শুধু তাই নয় অনেকে গৃহবন্দী হয়ে যাচ্ছেন ভয়ে।
কালুকে বেঁধে রাখার দাবি স্থানীয়দের
জানা গিয়েছে, কালু নামের এই পাঁঠাটি প্রায় পাঁচ বছর আগে ঘোড়ানাশ গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেই জন্মেছিল। পরে মা কালীর কাছে মানতের পর এই পাঁঠাটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল রাস্তায়। শুরুতে এই কালু সবার কাছে বড় আদরের ছিল কিন্তু যত তার বয়স বাড়ছে ততই সে যেন হিংস্র হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কালুর দাপট বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হোক। কারণ এভাবে চলতে থাকলে যে কোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এদিকে পাঁঠার আতঙ্কে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা, এমনকি বাজারে দোকান হাট খুলতে গিয়েও আতঙ্কের মুখে পড়ছেন দোকানদারেরা।
আরও পড়ুন: বাড়ি ৫ কিমি দূরে, তবু স্কুলেই সংসার প্রধান শিক্ষকের! ব্যাপক শোরগোল চন্দ্রকোণায়
জানা গিয়েছে ইতিমধ্যেই বনদপ্তরের সহায়তায় গ্রামবাসীরা কালুকে বেঁধে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে, এক তাগড়াই পাঁঠার দাপটে এইভাবে পূর্ব বর্ধমানের দুই গ্রামের মানুষ যে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়বেন, তা সত্যিই কল্পনার বাইরে। তবে আপাতত আশা করা যাচ্ছে সেখানকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।