সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে বাম-কংগ্রেস সবার সঙ্গে জোট বাঁধার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিনের পর দিন ভাঙছে মমতার দল। বিধানসভা নির্বাচনের পরই বিধায়ক থেকে শুরু করে সাংসদরা সঙ্গ ত্যাগ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। বাংলার রাজনীতিতে এবার শক্তিশালী হচ্ছে সিপিএম। সেই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের সক্রিয় রাজনীতিতে আগের মতো অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিপিএমের যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধর (Dipsita Dhar)। এমনকি তৃণমূল ভাঙায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বামনেত্রী।
মমতাকে বড় আর্জি দীপ্সিতার
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৮ আসন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের দুর্গ ভেঙেছে বিজেপি। অন্যদিকে শূন্য থেকে একটি আসন পেয়েছে সিপিএম। তবে ভরাডুবির পর তৃণমূলের বিধানসভার পাশাপাশি লোকসভা এবং রাজ্যসভাও ভেঙে চুরমার। এমনকি প্রতীক এবং দলের নাম পর্যন্ত হারিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এর আগে একাধিকবার বাম এবং কংগ্রেসকে তৃণমূলের সাথে জোট বাঁধার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাংলা থেকে বিজেপিকে তাড়ানোই এখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য। সেই আবহেই এবার মমতাকে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার আহ্বান জানালেন বামনেত্রী।
সোমবার কলেজ স্ট্রিটের এক সমাবেশে অংশ নিয়ে দীপ্সিতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ বিজেপি বিরোধী হিসেবে ৮০টা আসনে তৃণমূলকে জিতিয়েছিল। তবে দেখলাম তৃণমূল প্রায় পুরোটাই বিজেপিতে মিশে গেল। টিমটিম করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লয়ালিস্ট কিছুজন এখন বেঁচে রয়েছে। কিন্তু তাঁরাও সাধারণ মানুষের যা ইস্যু তা নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছেন না। নিজেদের ঘর গোছাতে এতটা ব্যস্ত রয়েছেন। বামপন্থীরা তো প্রথম দিন থেকেই লড়াই করছে।”
আরও পড়ুন: সপ্তাহের শুরুতেই বদলে গেল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট
এদিকে মমতার প্রসঙ্গ তুলে দীপ্সিতা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভেঙে গিয়েছে। তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে আনন্দ পাইনি। যদিও আমি খুশি যে তিনি আর মুখ্যমন্ত্রী নন। যেভাবে মমতার দল ভাঙা হয়েছে সেটা বিজেপির একটা পরিণত চাল। যেটা আমরা আগে মহারাষ্ট্রে দেখেছি। যে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে রাজনীতিতে হারাতে পারছে না, তাদের মধ্যে থেকে কিছু দালালদের কিনে নিয়ে গণতান্ত্রিক পরিসরে একটা বিরোধীশূন্য করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে ভারতে। মমতা আমাদের সাহায্য করছেন কিনা বলতে পারব না। তবে যা হয়েছে তাতে বাংলার মানুষ বিপন্ন। অনুরোধ করব, আপনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসুন। এতগুলো মানুষ তো আপনাকেই ভরসা করেছিল। ৮০টা আসনে তো আপনারাই জিতেছিলেন। আপনার দলের একের পর এক নেতা বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করছেন। এগুলোকে আটকান।”