বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পর্দায় বহুবার সেনাবাহিনীর (Indian Army) ভূমিকায় দেখা গিয়েছে সদ্য প্রয়াত অভিনেতা নানা পাটেকরকে (Nana Patekar)। তবে ভারতীয় অভিনেতার জীবনের এমন এক কাহিনী রয়েছে যা যেকোনও সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। অনেকেই হয়তো জানেন না, 1999 সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে ভারতীয় সেনাকে সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, যুদ্ধে যেতে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের কাছেও বিশেষ অনুমতি চেয়েছিলেন অভিনেতা।
কার্গিল যুদ্ধে যুক্ত হন নানা
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, 1990 এর দশকে প্রহার সিনেমার জন্য মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে থেকে প্রায় তিন বছর সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন ভারতীয় অভিনেতা। পরবর্তীতে কার্গিল যুদ্ধ শুরু হলে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই ভারতীয় সেনার সাথে যুদ্ধে জড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে প্রাথমিকভাবেই সেনাবাহিনীর তরফে অনুমতি পাননি অভিনেতা। যার জেরে পরে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নানা পাটেকর।
একবার এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজেই জানিয়েছিলেন, দেশের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাথে কথা বলে নিজের সামরিক প্রশিক্ষণের কথা জানিয়ে কার্গিল যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার আবেদন জানাতেই নাকি তাঁকে সেই যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অনুমতি পাওয়ার পর 1999 সালের আগস্ট মাসে নিয়ন্ত্রণ রেখা বা LOC এর কাছে যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে সময় কাটিয়েছিলেন নানা।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজ সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রায় দু সপ্তাহ সময় কাটিয়েছিলেন তিনি। জানা যায়, দ্রাস, লেহ, কুপওয়াড়া, বারামুল্লা ও সোপোরের মতো বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে ছিলেন ভারতীয় অভিনেতা। জানা গিয়েছে, কার্গিল যুদ্ধে ভারতীয় সেনাকে সব রকম সহযোগিতা করার পাশাপাশি বেশ কিছুদিন হাসপাতালেও কাজ করেছিলেন নানা পাটেকর। কার্গিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনার কুইক রেসপন্স টিমের সদস্য ছিলেন অভিনেতা।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি সন্দেহে ২ মাস আটক ব্যক্তি, ‘৭০-র দশকে আসা সবাইকে ফেরানো সম্ভব?’ প্রশ্ন হাইকোর্টের
দিনের পর দিন কার্গিল যুদ্ধ চলাকালীন প্রতিকূল পরিবেশে থাকার প্রভাব সরাসরি পড়েছিল নানার শরীরে। পরে কৌন বনেগা ক্রোড়পতি অনুষ্ঠানে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিনেতা জানিয়েছিলেন, কার্গিল যুদ্ধের সময় শ্রীনগরে যখন পৌঁছন সেই সময় তাঁর শরীরের ওজন ছিল 76 কেজি। পরবর্তীতে ভারতীয় সেনাকে সাহায্য করে ফিরে আসার সময় সেই ওজন 20 কেজি কমে 56 কেজি হয়ে যায়। সবমিলিয়ে, একটা দীর্ঘ সময়ের জন্য অভিনয় দুনিয়া থেকে বিরতি নিয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন নানা।