আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ভারতের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন দায়িত্ব পেলেন ২০১০ ব্যাচের রাজস্থান ক্যাডারের আইএএস (IAS) আধিকারিক প্রকাশ রাজপুরোহিত (Prakash Rajpurohit)। তাঁকে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার (Deputy Election Commissioner) পদে নিয়োগ করেছে কেন্দ্র (Central Government)। আগামী ৮ এপ্রিল ২০৩০ পর্যন্ত এই পদে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ নির্ধারিত হয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনায় তাঁর নতুন দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিজ্ঞ আমলা থেকে ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার
প্রকাশ রাজপুরোহিত রাজস্থান ক্যাডারের একজন অভিজ্ঞ আমলা। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার থেকে তিনি জাতীয় স্তরে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলাবেন। নির্বাচন কমিশনের কাজের মধ্যে ভোটের প্রস্তুতি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সমন্বয়ের মতো একাধিক বিষয় রয়েছে। নতুন পদে নির্দিষ্টভাবে তাঁকে ঠিক কোন কোন দায়িত্ব সামলাতে হবে এবং তাঁর কাজের পরিধি কতটা বিস্তৃত, সেটা অবশ্য কমিশনের কাজের বণ্টনের উপর নির্ভর করবে।
এই নিয়োগের পাশাপাশি কেন্দ্রের তরফে একাধিক আমলার দায়িত্ব ও পদে রদবদলের খবরও সামনে এসেছে। ফলে প্রকাশ রাজপুরোহিতের নিয়োগকে বৃহত্তর প্রশাসনিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে তাঁর নিয়োগের সঙ্গে অন্য পরিবর্তনগুলির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
প্রকাশ রাজপুরোহিতের নিয়োগ ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোচনায় উঠে এসেছে। তাঁর পূর্বসূরি সঞ্জয় কুমারের অপসারণ এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কাজ এবং সঞ্জয় কুমারকে ওই বিভাগের দায়িত্ব থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি আপত্তি জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আরও একটি প্রতিবেদনে কমিশনের ফাইল পাঠানোর পদ্ধতি ও প্রশাসনিক নির্দেশিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাধুর বেশে আত্মগোপন, কোচবিহারে চা খেতে গিয়ে গ্রেফতার বাংলাদেশি
নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের ফলে রাজপুরোহিতের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। আগামী দিনে কমিশনের বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা এবং দায়িত্বের পরিধি আরও স্পষ্ট হবে।