আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: প্রতিশ্রুতি মিললেও বেতন বৃদ্ধি হয়নি, মেলেনি মহার্ঘভাতা (Dearness Allowance)। সেই দাবিতেই পুজোর আগেই রাজ্যের একাধিক সরকারি হোমিয়োপ্যাথিক (Homoeopathic) মেডিক্যাল কলেজে (Medical College) বিক্ষোভে শামিল হলেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা (Homeopathic Junior Doctors)। কলকাতা হোমিয়োপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ, মেদিনীপুর হোমিয়োপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ এবং হাওড়ার মহেশ ভট্টাচার্য হোমিয়োপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পোস্টার হাতে আন্দোলন (Protest) শুরু করেন তাঁরা।
কী দাবি জুনিয়র চিকিৎসকদের?
এই বিক্ষোভের মূলত দুটি দাবি রয়েছে। চিকিৎসকদের মূল দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকা বাড়াতে হবে এবং বর্ধিত হারে ২০ শতাংশ ডিএ দিতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালের এমবিবিএস ও বিডিএস জুনিয়র চিকিৎসকদের বেতন বৃদ্ধি করা হলেও হোমিয়োপ্যাথিক চিকিৎসকেরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। একই সমস্যা রয়েছে আয়ুর্বেদিক জুনিয়র চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও, দাবি আন্দোলনকারীদের।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সরকারি হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকদের বেতন ১০ হাজার টাকা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। অন্য দিকে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে সরকারি কর্মীদের ডিএ ২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও জুলাই মাসে পুজোর আগে বর্ধিত ডিএ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কোথায় সেই DA? তবে কি এসব শুধুই মৌখিক আশ্বাস? হোমিয়োপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকদের অভিযোগ, ঘোষণার পরেও তাঁরা বর্ধিত বেতন ও ডিএ পাননি।
দাবি আদায়ে এর আগেও একাধিক বার স্বাস্থ্য ভবনের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের অভিযোগ, বার বার আশ্বাস দেওয়া হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, হোমিয়োপ্যাথিক চিকিৎসকেরাও অন্যান্য ধারার জুনিয়র চিকিৎসকদের মতো দায়িত্ব পালন করেন। তাই বেতন ও ভাতার ক্ষেত্রে তাঁদের সঙ্গে বৈষম্য করা উচিত নয়। স্বাস্থ্য ভবনের তরফে লিখিত বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ভবনের আয়ুষ বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগের দিনই জুনিয়র চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিল। ডিএ-র দাবি মেটাতে আয়ুষ বিভাগের জন্য পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত ফাইলও তৈরি। এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তবে এই আশ্বাসের পরেও কেন চিকিৎসকেরা বিক্ষোভে নেমেছেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই আধিকারিক।
আরও পড়ুন: পুজোর সময়েই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হাওড়ার ১৪টি ফেরি ঘাট! কারণ কী?
অন্য দিকে, ৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের ডিপ্লোমাধারী হোমিয়োপ্যাথিক চিকিৎসকদের জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছিল। সেই ঘটনাতেও স্বাস্থ্য ভবনে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশনের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। বর্তমানে ফের বেতন বৃদ্ধি ও ডিএ-র দাবিতে আন্দোলনে শামিল হয়েছেন হোমিয়োপ্যাথিক চিকিৎসকেরা।