অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতের অন্যতম ধনী শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের (Reliance Industries) ডিজিটাল ব্যবসায়িক শাখা ‘জিও প্ল্যাটফর্মস’ (Jio Platforms)-এর ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (IPO)-এর প্রস্তুতি চলছে। প্রায় ৩৭,৭০০ কোটি টাকা মূল্যের এই আইপিও-টিকে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম আইপিও হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে জিও প্ল্যাটফর্মসের মালিকানা শুধুমাত্র রিলায়েন্সের হাতেই নেই, মেটা, গুগল এবং সৌদি আরবের সভরেন ওয়েলথ ফান্ড-এর মতো অনেক গ্লোবাল ইনভেস্টারেরও এই কোম্পানিতে অংশীদারিত্ব রয়েছে। কোন কোন সংস্থার বিনিয়োগ রয়েছে জিও প্ল্যাটফর্মে, আসুন জেনে নেওয়া যাক।
কতজন অংশীদার রয়েছে জিও প্ল্যাটফর্মের?
কোম্পানির ‘ড্রাফট রেড হেরিং প্রসপেক্টাস’ (DRHP) বা খসড়া প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, জিও প্ল্যাটফর্মসে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ৬৬.৪৩% অংশীদারিত্ব রয়েছে। এরপরই রয়েছে ৯.৯৮% মালিকানা সহ মেটার সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাদু হোল্ডিংস এবং ৭.৭৩% অংশীদারিত্ব সহ গুগল ইন্টারন্যাশনাল এলএলসি। অর্থাৎ, রিলায়েন্স সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার হলেও কোম্পানির ওপর তাদের একমাত্র বা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।
ডিআরএইচপি-তে মোট ১০৫ জন শেয়ারহোল্ডারের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এদের মধ্যে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এবং কেকেআর (KKR & Co.)-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওমিক্রন এশিয়া হোল্ডিংস ২ – দুই সংস্থারই ২.৩১% করে অংশীদারিত্ব রয়েছে। ‘ভিস্টা ইকুইটি পার্টনার্স’-এর সাথে যুক্ত ভিইপিএফ ৭ এআইভি ১ (VEPF VII AIV I)-এরও কোম্পানিতে একই পরিমাণ মালিকানা রয়েছে। এ ছাড়াও, সিলভার লেক-এর সহযোগী এসএলপি রেডউড হোল্ডিংস-এর ১.৮৮%, মুবাডালা’-র সহযোগী এমআইসি রেডউড ১-এর ১.৮৫%, জেনারেল আটলান্টিক সিঙ্গাপুর-এর ১.৩৪% এবং আবু ধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির সহযোগী প্ল্যাটিনাম জেসমিন এ ২০১৮ ট্রাস্ট-এর ১.১৬% অংশীদারিত্ব রয়েছে।
আরও পড়ুন: জানেন অলিম্পিকের স্বর্ণপদকে কতটা খাঁটি সোনা থাকে? রইল তথ্য
উল্লেখ্য, গুগল ও মেটার বিনিয়োগ থেকে বোঝা যায় যে, জিও প্ল্যাটফর্মস তাদের ডিজিটাল ব্যবসার সম্প্রসারণের জন্য বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সংস্থা ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ফান্ডিং পেয়েছে। কোম্পানির আগামী দিনের পরিকল্পনাগুলির ক্ষেত্রেও এই পার্টনারশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট থেকে জানা গেছে যে, আইপিও-র শেয়ার প্রতি মূল্যসীমা (Price Band) ১,০৬৫ টাকা থেকে ১,১১৯ টাকার মধ্যে রাখার চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে এটিই চূড়ান্ত মূল্য নয়, কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ডিআরএইচপি থেকে এ-ও জানা গেছে যে, এই আইপিও-র মাধ্যমে প্রায় ২৭ কোটি নতুন ইকুইটি শেয়ার ইস্যু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা শেয়ার ইস্যু-পরবর্তী মোট ইকুইটির প্রায় ২.৯ শতাংশের সমতুল্য হতে পারে। প্রস্তাবিত এই আইপিও-তে ‘অফার ফর সেল’ (OFS) বা বিদ্যমান শেয়ার বিক্রির কোনও ব্যবস্থা থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ, ফলে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা তাদের শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে আসতে পারবেন না, বদলে নতুন শেয়ার ইস্যু করার মাধ্যমেই ফান্ডিং নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: পোষায় না ৩০০০ টাকাতেও ! অন্নপূর্ণা যোজনায় আরও বেশি অনুদানের দাবি মহিলাদের
পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের জন্য এই আইপিও ১৯ অক্টোবর চালু হতে চলেছে। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি ২১ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে শোনা যাচ্ছে। আর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে গিয়ে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তি হতে পারে। জানিয়ে রাখি, গত ২৮ আগস্ট বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI) জিও প্ল্যাটফর্মস-এর আইপিও সংক্রান্ত নথিপত্রের বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে। কোম্পানিটি গত জুন মাসে আইপিও-র ড্রাফট নথিপত্র জমা দেয়। আর এখন বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের চূড়ান্ত মূল্য এবং তালিকাভুক্তির পর বাজারের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, সেদিকেই নজর রেখেছেন।