সহেলি মিত্র, কলকাতা: এলপিজি অতীত, মানুষের ঘরে ঘরে পাইপলাইনের (PNG Gas) মাধ্যমে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশজুড়ে এই কাজ শুরু হয়েছে। তবে শহর কলকাতায় মাত্র কয়েক কিমি অবধিই পাইপ লাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। রাস্তা খোঁড়ার খরচ নিয়ে জটিলতায় কলকাতায় এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩.৫ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হয়েছে। অভিষিক্তা থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত পাইপলাইন বসানো হলেও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়নি। বাইপাসের উপর দিয়ে পাইপলাইন গেলেও তৈরি হয়নি শাখা লাইন। তাই এবার রাজ্যকে বিশেষ নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার।
পাইপলাইনে গ্যাস নিয়ে বাংলাকে বিশেষ নির্দেশ কেন্দ্রের
কলকাতায় পাইপ গ্যাসের পরিকাঠামো দ্রুত গড়ে তুলতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ২৪ মার্চের কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনে গোটা রাজ্যে নামমাত্র খরচে পাইপলাইন বসানোর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বাংলা। শীঘ্রই এ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পাইপলাইন বসানোর খরচ প্রতি মিটারে মাত্র ২ টাকা হতে পারে। বর্তমানে কলকাতা পুরসভা এলাকায় এই খরচ ৮৫০–৮৮০ টাকা এবং রাজ্যের অন্যান্য পুরসভায় গড়ে ১৫০ টাকা।
আরও পড়ুনঃ হামলা হয়নি মমতার উপর, অভিযুক্ত পূর্ব পরিচিত! হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন পুলিশ কমিশনার
তেল প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী সংসদে জানিয়েছিলেন, ২০৩২ সালের মধ্যে বাংলার ১.৪৬ কোটি বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত ৩১ মে পর্যন্ত সংযোগ পৌঁছেছে মাত্র ১.৬২ লক্ষ বাড়িতে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১ শতাংশ।এই পরিস্থিতিতে দেশে পাইপ গ্যাসের পরিকাঠামো দ্রুত গড়ে তুলতে সেপ্টেম্বরের শেষে বৈঠকে বসেন কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ কর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তরুণ কপূরের উপস্থিতিতে বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, শিল্পসচিব, অর্থসচিব এবং তেল-গ্যাস সংস্থার আধিকারিকরা। সেখানেই কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনে দ্রুত পরিকাঠামো তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজ্য সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করলে অক্টোবরে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে।
বৈঠকের পর জট কাটবে?
বৈঠকের পর কলকাতায় পাইপ গ্যাসের লাইন বসানো নিয়ে জট কাটার আশায় রয়েছে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি। সংস্থার সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায়ের দাবি, কলকাতা পুরসভা এলাকায় পাইপলাইন বসানোর বাস্তবসম্মত খরচ নির্ধারণের জন্য বারবার আবেদন করেও সাড়া মেলেনি। ফলে শহরে মাত্র একটি আবাসনেই এই পরিষেবা চালু হয়েছে। বৈঠকে রাজ্য জানিয়েছে, খরচ সংক্রান্ত ফাইল অর্থ দফতরে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। তবে প্রতি মিটার পাইপলাইন বসানোর খরচ মাত্র ২ টাকা ধার্য হলে বড়সড় রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।