প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মা দুর্গার আরাধনায় দত্তপুকুরে (Duttapukur) দেখা গেল এক দুর্দান্ত দৃশ্য। ধর্মের বেড়াজাল ভেঙে দীর্ঘ ১০০ বছর পরে নতুন করে শুরু হল বন্ধ থাকা দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026)। জানা গিয়েছে, সমাজকর্মী তথা বিজেপি কর্মী কাশেম আলীর (Kashem Ali) উদ্যোগে দীর্ঘ এক শতাব্দী পর এই দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হল এলাকায়। পাশাপাশি স্থানীয়দের বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। তাঁর এই উদ্যোগকে ঘিরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে খুশির আবহ।
দত্তপুকুরে শুরু হল দুর্গাপুজো
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত দত্তপুকুরের এই নির্দিষ্ট এলাকায় একসময় ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো হতো। এই পুজোর সঙ্গে নাকি বিভিন্ন ঐতিহাসিক, সামাজিক সংস্কৃতি জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু কিছু কারণে দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে এই পুজোটি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ফলে ওই এলাকায় দুর্গাপূজোর আমেজ ছিল না প্রায়। কিন্তু এবার সরকার পরিবর্তন হতেই সেই পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে এল দত্তপুকুর এলাকায়। অবশেষে সমাজকর্মী কাশেম আলীর উদ্যোগে ১০০ বছর পর পুনরায় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হল।
সম্প্রীতির বার্তা কাশেম আলীর
জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে দত্তপুকুরের ওই এলাকায় পুজো উপলক্ষে এক লক্ষ টাকা পেয়েছেন স্থানীয়রা। শুধু তাই নয়, কাশেম আলীর নিজস্ব তহবিল থেকে আরো কুড়ি হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে সেখানকার স্থানীয় মহিলাদের জন্য শাড়ি এবং বাচ্চাদের জন্য বিশেষ উপহারের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মের দেওয়াল ভেঙে সম্প্রীতির এক অনন্য নজির গড়তে এগিয়ে আসেন স্থানীয় সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কাশেম আলী। ধর্মের দেওয়াল ভেঙে সম্প্রীতির এক অনন্য নজির গড়তে এক অসাধারণ উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। আর সেই নিয়ে স্থানীয়রাও বেশ প্রশংসা করছে।
আরও পড়ুন: ‘নতুন সরকার তো কী? আন্দোলনে নামব’ সন্দীপ ঘোষ জামিন পেতেই জানালেন অভয়ার বাবা
কাশেম আলী নিজে উদ্যোগী হয়ে এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন এবং মণ্ডপ তৈরি থেকে শুরু করে প্রতিমা আনা ও পুজোর সমস্ত রীতিনীতি পালনের ব্যবস্থা করেছিলেন। সাংবাদিকদের কাশেম আলী জানান, “এখন থেকে প্রতি বছর পুজো হবে। আমি সব সময় এলাকার মানুষের সঙ্গে থাকবো।” নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “বরাবর উনি মানুষের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এসেছেন। এই ১০০ বছর ধরে বন্ধ হয়ে থাকা পুজোটিও তার হাত দিয়ে এবার শুরু হয়েছে। আমরা খুব খুশি।”