সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চোরবাগান বিপর্যয়ের (Chorbagan Incident) ঘটনায় বাঙালির মনে এখন আতঙ্ক। প্রাণ গিয়েছে তরতাজা ১৯ জনের এবং আহত ২৫। তবে সেই ঘটনায় তৎপর রাজ্য সরকার। পুজো কমিটির অনিয়ম কিংবা পুলিশের গাফিলতি, ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ধরপাকড়। তবে বাড়তি কিছু উপার্জনের আশায় গোঘাট থেকে কলকাতায় এসেছিলেন রাজেশ পাল। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে উৎসবের ক’দিন সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। কিন্তু চোরবাগানের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন রাজেশ। এতেই ভেঙে পড়েছে তাঁর পরিবার।
গ্রেফতার গোঘাটের যুবক রাজেশ পাল
রাজেশের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গোঘাটের মান্দারণ পঞ্চায়েতের ভগবানপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজেশ একজন দিনমজুরের ছেলে। সংসারে অভাব নিত্যদিনের ঘটনা। তবে পুজোর মরশুমে কটা বাড়তি আয়ের উদ্দেশ্যে কলকাতায় সিকিউরিটি গার্ডের কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তবে এবারের পরিস্থিতি যে এরকম মর্মান্তিক দিকে মোড় নেবে, তা কেই বা বলতে পারত! চোরবাগান কাণ্ডে ছেলের গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই ভেঙে পড়েছে তাঁর বাবা-মা।
এ বিষয়ে মিডিয়াকে রাজেশের বাবা জিতেন পাল জানিয়েছেন, ঘটনার দিন ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোন সুইচ অফ ছিল। পরে অন্য সহকর্মীদের কাছ থেকে তাঁরা দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন। তাঁর কথায়, “পুলিশ প্রশাসন থাকতে আমার ছেলেকে কেন গ্রেফতার করা হল? সরকারের কাছে আমার বিনীত আবেদন, আমার ছেলেকে যেন দ্রুত ভালোভাবে ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ও তো শুধুমাত্র কিছু রোজগারের জন্যই প্রতি বছর গার্ডের কাজে যায়।”
আরও পড়ুন: পুজোর মধ্যে লোকাল ট্রেনেই বিউটি পার্লার! মহিলাদের তাজ্জব কাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল
এদিকে ছেলের গ্রেফতারির খবর শুনে বাকরুদ্ধ রাজেশের মা শিবানী পাল। কাঁদতে কাঁদতে তিনি জানিয়েছেন, শেষবার রাত দেড়টার দিকে বাবার মোবাইলে একটি ছবি পাঠিয়েছিল রাজেশ। তারপর তাঁকে যে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁরা তা জানতেন না। পরিবারের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত সত্য সামনে আনতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। রাজেশ রবিবার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল বলেই জানান তাঁর মা।