আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এই আবহে বিজেপি (Bhartiya Janata Party) ছাড়ার ঘোষণা করলেন বদায়ুঁর বিসৌলি কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক (Member of the Legislative Assembly) কুশাগ্র সাগর (Kushagra Sagar)। বুধবার, ২১ অক্টোবর, ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ এবং সমস্ত দায়িত্ব থেকে ইস্তফার কথা জানান তিনি। বিজেপির সঙ্গে ১১ বছরের সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে আত্মসম্মান বজায় রেখে নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন কুশাগ্র।
হঠাৎ এই ইস্তফার কারণ কী?
ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কুশাগ্র জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করার পরেও প্রত্যাশিত সম্মান ও আপনজনের মতো ব্যবহার তিনি পাননি। ব্যক্তিগত জীবনে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দলের জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করেছেন বলে দাবি তাঁর। ২০১৭ সালে বিসৌলি কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন কুশাগ্র। তবে ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী আশুতোষ মৌর্যের কাছে পরাজিত হন তিনি। ইস্তফার পোস্টে কোনও নির্দিষ্ট কারণ বা কোনও নেতাকে সরাসরি দায়ী করেননি কুশাগ্র।
তাঁর বক্তব্য, এত বছরের পরিশ্রমের পরেও প্রত্যাশিত সম্মান না পেলে, বিশ্বাস অটুট না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সেই সম্পর্কের ভিত নড়ে যায়। বিজেপিতে কাটানো সময় ও অর্জিত অভিজ্ঞতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, এটি রাজনৈতিক যাত্রার সমাপ্তি নয়, বরং আত্মসম্মান নিয়ে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সূচনা।
কুশাগ্র সাগর প্রথম নন, কিছুদিন আগেই দল ত্যাগ করেছেন আরও এক বিজেপি নেতা। গায়ক জুবিন নৌটিয়ালের বাবা তথা উত্তরাখণ্ডের রাজনীতিক রামশরণ নৌটিয়াল সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। ১৯ অক্টোবর দিল্লিতে কংগ্রেসের নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি দলে যোগ দেন বলে পিটিআই জানিয়েছে। এর আগে তিনি ২০১৪ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং ২০২২ সালের উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনে চাকরাতা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন সাংসদ ধর্মেন্দ্র কাশ্যপও বিজেপি ছেড়ে সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। পরপর নেতাদের দলত্যাগের বিষয়টি যে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভালোই প্রভাব ফেলতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য।
কুশাগ্র সাগরের ফেসবুক পোস্ট
প্রাক্তন বিজেপি নেতা তাঁর ফেসবুকে লেখেন, “কোনও সংগঠনের সঙ্গে টানা ১১ বছর সম্পূর্ণ নিষ্ঠা, সমর্পণ ও সততার সঙ্গে যুক্ত থাকা, সেই সংগঠনের কর্মীদের সেবায় নিজের শতভাগ উজাড় করে দেওয়া এবং সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সংগঠনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা, এগুলি কেবল রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয় নয়, বরং এক গভীর আবেগের বন্ধন। কিন্তু এত বছরের পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সমর্পণের বিনিময়ে যখন প্রত্যাশিত সম্মান ও আপনজনের মতো ব্যবহার পাওয়া যায় না, তখন মনে গভীর আঘাত লাগে। এই যন্ত্রণা শুধু পদ বা মর্যাদা না পাওয়ার নয়, বরং সেই সম্মান ও বিশ্বাস ভেঙে যাওয়ার, যা একজন মানুষ বছরের পর বছর ধরে নিজের হৃদয়ে লালন করে আসেন।”
তিনি আরও বলেন, “গত ১১ বছরে ব্যক্তিগত জীবনের নানা কঠিন পরিস্থিতি ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমি সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির জন্য কাজ করেছি। দল এবং তার কর্মীদের সহযোগিতায় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সব রকম চেষ্টা করেছি। আমি সব সময় সংগঠনকে নিজের পরিবার বলে মনে করেছি এবং তার শক্তি বৃদ্ধির জন্য আমার মূল্যবান সময়, শক্তি ও সমর্পণ দিয়েছি। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার পক্ষে সহজ নয়। কারণ, গত ১১ বছরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও আবেগ, যা এই যাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতীয় জনতা পার্টিতে কাটানো সময়, পাওয়া সুযোগ এবং এই সময়ে অর্জিত অভিজ্ঞতার জন্য আমি অন্তরের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।”
আরও পড়ুন: রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসার সাপ্তাহিক ছুটির দিন বদল, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
ইস্তফা দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই আত্মসমীক্ষা ও নিজের অনুভূতিগুলিকে সামনে রেখেই আজ, ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে, ভারতীয় জনতা পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ এবং দলের মধ্যে পালন করে আসা সমস্ত দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করছি। আমার ১১ বছরের রাজনৈতিক যাত্রায় এটি একটি আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি। এই যাত্রায় যাঁরা আমার পাশে থেকেছেন, আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন এবং তাঁদের স্নেহ ও সহযোগিতা দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমার কাছে এটি সমাপ্তি নয়, বরং আত্মসম্মান বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার এক নতুন সূচনা।”