বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সম্প্রতি সৌদি আরবের (Saudi Arabia) মক্কার মসজিদ চত্বরে একে অপরকে আলিঙ্গন করে চুম্বন করায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি সরকার। তবে এই ঘটনার আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় এক ভারতীয় (India) নাগরিকেরও, এমনটাই বলছে দ্য হিন্দুর রিপোর্ট। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌদিতে মাদক মামলায় আবৃত্তি ভাল্লিয়িরের 25 বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। ইতিমধ্যেই সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও হয়েছে বলেই খবর। যদিও এ নিয়ে নয়া দিল্লির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ভারতীয়র!
দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত 27 সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের দাম্মাম কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় কেরলের মাহের পেরিংগাদির বাসিন্দা আবৃত্তির। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, 2023 সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে গ্রেফতার করার পর 25 বছরের কারাদন্ড এবং 10 লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সৌদি রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁর কারাদণ্ড এবং জরিমানার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড মঞ্জুর করে।
সৌদি আরবে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুদন্ড নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকার বা নয়া দিল্লির তরফে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো না হলেও ওই ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের ছেলেকে সম্পূর্ণভাবে ফাঁসিয়ে পরিকল্পনা করে এসব করা হয়েছে। এর পেছনে হাত রয়েছে সৌদির কিছু অসাধু লোকজনের।
ওই ব্যক্তির পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, ওমানে একটি মোবাইল ফোনের দোকানে কাজ করতেন আবৃত্তি। তবে ওমানের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজের সন্ধানে সৌদি আরবে ছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, 2023 সালের 2 ডিসেম্বর ভারতে ফিরে আসার কথা ছিল ওই ব্যক্তির। তবে তার আগে কান্নুরের একজন তাঁকে তাঁর গাড়িটি নিয়ে সৌদি আরবে অন্য আরেক জনের কাছে দিয়ে আসতে বলে। পরিবার জানিয়েছে, কান্নুরের ওই ব্যক্তি তাঁদের ছেলেকে ভিসা এবং টিকিটের লোভ দেখিয়ে সৌদি-ওমান সীমান্ত দিয়ে গাড়িটি এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিতে বলেছিল।
আরও পড়ুন: ভারতের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড, হাজারের উপর গোল, সেই মেওয়ালালকে ভুলেই গেল সবাই!
এও জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওই ব্যক্তি আবৃত্তিকে জানিয়েছিলেন, গাড়ির দুটি ফুয়েল ট্যাঙ্কের মধ্যে একটিতে লিক রয়েছে, তাই সে যেন কোনও ভাবেই পেট্রোল পাম্পে গাড়ি দাঁড় না করায় এবং তেল না ভরে। এসব কথা শুনেই গাড়িটি নিয়ে সৌদি আরব সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার সময় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী গাড়িটি চেক করতেই সেটির ট্যাঙ্ক থেকে 43 কেজি নিষিদ্ধ মাদক বা মেথঅ্যামফিটামিন উদ্ধার হয়। আর সেই ঘটনায় 25 বছরের কারাদণ্ড ও 10 লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হয়েছিল ওই ভারতীয়কে। পরবর্তীতে তা বদলে গেল মৃত্যুদণ্ডে।