আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে চলেছে ‘People Against SIR’ নামে একটি যৌথ মঞ্চ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) অপসারণ ও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলার পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলি পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। ১৪ অক্টোবর দিল্লিতে বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ বৈঠকের পর এই মঞ্চ গঠিত হয়। ছাত্র-যুব, কৃষক, শ্রমিক, মহিলা, দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু-সহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলি এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
২৩ অক্টোবরের কর্মসূচিতে আমন্ত্রিত একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব
‘People Against SIR’-এর ডাকে আগামী শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পদযাত্রা, সমাবেশ এবং স্থানীয় স্তরে প্রতিবাদের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কর্মসূচির স্লোগান, ‘Har Haath Mein Tiranga, Har Gali Mein Jantar Mantar’ অর্থাৎ, প্রত্যেকের হাতে তেরঙ্গা এবং দেশের প্রতিটি গলিকে প্রতিবাদের মঞ্চে পরিণত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে অর্থনীতিবিদ পারাকালা প্রভাকর, অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ, সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত, লেখক তুষার গান্ধী, ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা এবং ঐশী ঘোষকে। এছাড়াও ‘Cockroach Janata Party’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, RTI কর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ, সাহিত্য সমালোচক গণেশ দেবী এবং AISF নেতা বিরাজ দেবাংয়ের নামও আমন্ত্রিত ও সমর্থকদের তালিকায় রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারাকালা প্রভাকর এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে আমন্ত্রিত প্রত্যেক ব্যক্তির উপস্থিতি এখনও নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে, বিরোধী INDIA জোটের দলগুলিকেও এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে উদ্যোক্তারা।
কী কী দাবি তুলছে প্রতিবাদ মঞ্চ?
SIR প্রক্রিয়া বাতিলের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা তৈরির পদ্ধতি নিয়ে একাধিক দাবি তুলেছে ‘People Against SIR’।
প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে,
- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
- SIR প্রক্রিয়া বাতিল করা এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা।
- নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগব্যবস্থা চালু করা।
- ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের নিরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো।
- ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটদানের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।
মঞ্চের অভিযোগ, SIR-এর ফলে বিপুল সংখ্যক যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
পুলিশের অনুমতি ছাড়াই কর্মসূচির প্রস্তুতি?
এই প্রতিবাদকে ঘিরে দিল্লির যন্তর মন্তর নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাতিল করেছে। এর আগে সেখানে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রতিবাদ করার ঘটনায় ‘Cockroach Janata Party’-র নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের গ্রেফতারির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়েছে নতুন মঞ্চ। জানা যাচ্ছে, দিল্লির প্রস্তাবিত পদযাত্রার জন্য উদ্যোক্তারা পুলিশের অনুমতি চাননি। ফলে কর্মসূচিটি কীভাবে পরিচালিত হবে এবং প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।
দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা
‘People Against SIR’ কেবল দিল্লির একটি কর্মসূচির মধ্যেই আন্দোলন সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। সংগঠকদের পরিকল্পনা, বিভিন্ন রাজ্য ও স্থানীয় এলাকায় পদযাত্রা, জনসভা, গণসমাবেশ এবং ভোটার তালিকার সামাজিক নিরীক্ষার উদ্যোগ বাড়ানো। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির কাছে খোলা চিঠি পাঠানো এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।
আরও পড়ুন: পুজো শেষ হতেই সুখবর, অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন আবেদন শুরু কবে? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
মঞ্চের বক্তব্য, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা গণতন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সেই কারণেই ২৩ অক্টোবরের কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখন গোটা দেশের নজর আগামী ২৩ অক্টোবরের কর্মসূচির দিকে। আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে কারা শেষ পর্যন্ত উপস্থিত হন, বিরোধী দলগুলি কতটা সাড়া দেয় এবং প্রশাসন কী অবস্থান নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।