সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ভারতীয় রেল বিভাগ ধীরে ধীরে রেললাইন সম্প্রসারণ করছে। যেখানে সমতল অঞ্চলে সুপারফাস্ট ট্রেন চালানোর জন্য নতুন রেললাইন তৈরি করা হচ্ছে, অন্যদিকে রেল জোরকদমে পাহাড়ি এলাকায় রেল নেটওয়ার্ক মজবুত করার কাজও করছে। যত সময় এগোচ্ছে এখন হিমালয়ে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এখানে সম্প্রসারণ শুধু যাতায়াত এবং পর্যটনের জন্য নয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছানোর কৌশলও রয়েছে। এই ধারার মধ্যে রেল বিভাগ ঋষিকেশ থেকে কর্ণপ্রয়াগ (Rishikesh Karnaprayag Rail Project) পর্যন্ত ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়ে বড় তথ্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
গতি পেল ঋষিকেশ-কর্ণপ্রয়াগ রেল প্রকল্পের কাজ
অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) জানিয়েছেন, পাহাড় কেটে এবং ভিতরে টানেল তৈরি করে তৈরি করা হচ্ছে এই রুটটি, যা উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় প্রথমবারের মতো বিস্তৃত রেল সংযোগ প্রদান করবে। প্রায় ৮৩ শতাংশ অংশ টানেলের মধ্য দিয়ে যাবে। প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো দেবপ্রয়াগ এবং জনাসু এর মধ্যে তৈরি হওয়া ১৪.৫৮ কিমি দীর্ঘ টানেল নম্বর-৮, যা সম্পূর্ণ হলে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম রেলওয়ে টানেল হবে। ঋষিকেশ থেকে কর্ণপ্রয়াগ প্রকল্পের মূল বিষয়গুলো হলো: ১৬টি প্রধান টানেল, যাদের মধ্যে ১২টির খনন কাজ শেষ, ১২টি উদ্ধার টানেল, যাদের মধ্যে ১০টির খনন সম্পন্ন। এছাড়াও হবে ১২টি ব্রিজ।
চিন সীমা পর্যন্ত যুক্ত হবে রেল নেটওয়ার্ক
রেলওয়ে বিভাগ দ্বারা তৈরি করা হচ্ছে এই রেল নেটওয়ার্ক, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তার কারণে আরও মজবুত থাকবে। কর্ণ প্রয়াগ পর্যন্ত নির্মিত এই রেল লাইন চিনের সীমার কাছে পৌঁছে যাবে, যেখানে থেকে ভারত-চিন সীমা মাত্র ১২৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভালো সংযোগের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয়দের চলাচল, জরুরি সেবার উপস্থিতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তাত্ক্ষণিক উদ্ধার ও সাহায্যের কাজ সহজ হবে। এটি সামরিক প্রস্তুতির বিস্তৃত নেটওয়ার্কের অংশও। পাশাপাশি চারপাশের ভ্রমণও সহজ হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুনঃ ২০২৬-র শেষে ঘুরে যাবে এই পাঁচ রাশির ভাগ্য, কী বলছে বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী?
এই রেল প্রকল্প শুধু যাত্রী পরিবহণের ক্ষেত্রেই নয়, উত্তরাখণ্ডের পর্যটন শিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। হিমালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছর বহু পর্যটক উত্তরাখণ্ডে যান। উন্নত রেল যোগাযোগ চালু হলে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সুবিধাজনক হতে পারে। এর পাশাপাশি হোটেল, পরিবহণ, স্থানীয় ব্যবসা এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারেও এই প্রকল্প সহায়ক হতে পারে।