অনন্যা সরকার, মণিপুর: এশিয়া ও আফ্রিকার ২৩টি দেশ ঘুরে ভারতে ফিরে এসেছে স্যাটেলাইট ট্যাগযুক্ত দুটি আমুর বাজপাখি (Amur Falcons)। কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ঘোষণা করেছেন যে, ‘আপাপাং’ এবং ‘আলাং’ নামের বাজপাখি দুটো উত্তর-পূর্ব চীনে তাদের প্রজনন ক্ষেত্র থেকে যাত্রা শুরু করার ১১ দিন পর মণিপুরে পৌঁছেছে। ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (WII)-এর বিজ্ঞানীরা ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাখি দুটিকে ট্যাগ করেন, এই এক বছরব্যাপী ট্র্যাকিং প্রক্রিয়ার সফল সমাপ্তি গবেষকদের তাদের পরিযায়ী পথ এবং আচরণ সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য দিয়েছে।
মণিপুরে ফিরলো ‘আপাপাং’ ও ‘আলাং
স্যাটেলাইট ট্যাগড আমুর বাজপাখি দুটিকে নিয়ে বিজ্ঞানীদের এই গবেষণার সাফল্যকে স্বাগত জানিয়ে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বাজপাখি দুটিকে “প্রকৃত বিশ্ব নাগরিক” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই পাখিদের দুই মহাদেশ জুড়ে অতিক্রম করা বিশাল দূরত্ব ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তাদের গতিবিধি ট্র্যাক করার ক্ষমতা সংরক্ষণ গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘আপাপাং’ এবং ‘আলাং’ মণিপুরের তামেনলং জেলার পাহাড়ি অঞ্চলের নির্দিষ্ট রেস্টিং স্পটে দুই থেকে তিন সপ্তাহ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। আমুর বাজপাখিদের বার্ষিক পরিযানের সময় এই এলাকাটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্রামস্থল হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় মানুষরা প্রতি বছর অধীর আগ্রহে তাদের ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন এবং তাদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন: বিয়ের মরশুমে বাল্যবিবাহ রুখতে ১০০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
এই সময়ে, বাজপাখিগুলো তাদের যাত্রাবিরতির স্থানের আশেপাশে থাকা পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে। এটি তাদের শরীরে চর্বি জমাতে সাহায্য করে, যা তাদের দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য যাত্রার পরবর্তী অংশের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। মণিপুর থেকে তাদের পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে আফ্রিকার সোমালিয়া। অর্থাৎ, প্রায় ৬,০০০ কিলোমিটারের একটি যাত্রা, যার মধ্যে রয়েছে একটানা ছয় দিনের উড়ান এবং আরব সাগরের ওপর দিয়ে ৩,০০০ কিলোমিটারের এক কঠিন পথ।
উল্লেখ্য, আমুর বাজপাখি হল একটি ছোট পরিযায়ী শিকারী পাখির প্রজাতি। এরা উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় প্রজনন করে ও শীতকাল কাটানোর জন্য হাজার হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করে আফ্রিকায় পৌঁছায়। এই পরিযানের সময় ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল, বিশেষ করে মণিপুর, একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাবিরতির স্থান হিসেবে কাজ করে। যদিও এই পাখিগুলোকে একটা সময় শিকার করা শুরু হয়েছিল, কিন্তু স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই অঞ্চলে পাখি সুরক্ষার একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং গবেষকদের ‘আপাপাং’ এবং ‘আলাং’-এর পরিযায়ী পথ, বিশাল সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অসাধারণ সহনশীলতা এবং বিভিন্ন দেশ জুড়ে তাদের গতিবিধি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করছে।