আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: জনপ্রতিনিধি হয়ে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চান অনেকেই। কিন্তু ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ কোথায় মিলবে, কীভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হওয়া যায়, তা অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। এবার কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে (Kolkata Municipal Corporation) বিজেপির (Bhartiya Janata Party) হয়ে লড়তে আগ্রহীদের সেই সুযোগ করে দিচ্ছে দল। দলীয় কর্মী হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী কিংবা সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা জানাতে পারবেন। কিন্তু কোথায় জমা দিতে হবে বায়োডাটা? আবেদনের শেষ দিন কবে? এবং প্রার্থী বাছাইয়ের সময় কোন বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেবে বিজেপি? এই প্রতিবেদনে রইল বিস্তারিত।
কীভাবে আবেদন করবেন?
কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের জন্য প্রার্থী খুঁজতে দলের পুরনো রাজ্য দফতরে ড্রপবক্স রাখার ব্যবস্থা করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা পুরভোটে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, যাঁরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তাঁরা নিজেদের বায়োডাটা জমা দিয়ে আগ্রহের কথা জানাতে পারবেন। আবেদনের জন্য যে বিষয়গুলি জেনে রাখা প্রয়োজন,
- আবেদনের ঠিকানা: বিজেপির পুরনো রাজ্য দফতর, ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেন, কলকাতা।
- কী জমা দেবেন: নিজের বায়োডাটা বা জীবনবৃত্তান্ত। তাতে ব্যক্তিগত পরিচয়, পেশা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার মতো প্রাসঙ্গিক তথ্য রাখা যেতে পারে।
- কোথায় জমা দেবেন: দলের দফতরে রাখা ড্রপবক্সে।
- শেষ সময়: ২৬ অক্টোবর, সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে।
- কারা আবেদন করতে পারবেন: বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মানুষ এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও নিজেদের প্রার্থীপদের জন্য বিবেচনা করার আবেদন জানাতে পারবেন।
তবে বায়োডাটা জমা দেওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দলের টিকিট পেয়ে যাবেন। আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
কাদের প্রার্থী করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেবে বিজেপি?
সবার জন্য রয়েছে সমান অধিকার। প্রার্থী নির্বাচনে শুধু পেশাগত পরিচিতি বা ব্যক্তিগত যোগ্যতাই শেষ কথা বলবে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে আবেদনকারীর গ্রহণযোগ্যতা কেমন, তাঁর ভাবমূর্তি কতটা স্বচ্ছ এবং ভোটে জেতার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সেগুলিও খতিয়ে দেখবে দল। সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপির পুরনো কার্যকর্তা ও কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রার্থী বাছাইয়ের আগে বুথ স্তর থেকে দলের উচ্চস্তর পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে আবেদনকারীর পরিচিতি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং প্রশাসনিক কাজ সামলানোর ক্ষমতাও বিবেচনায় আসবে।
অর্থাৎ, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দলের অভ্যন্তরীণ যাচাই ও আলোচনা শেষে। নির্বাচন ঘোষণার পর তিন থেকে চার দিনের মধ্যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন সুকান্ত।
২০৯টি আসনেই এককভাবে লড়ার প্রস্তুতি বিজেপির
প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার ২০৯টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। কোনও দলের সঙ্গে জোট করে নয়, নিজেদের প্রতীকে সব আসনে লড়াই করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০৯টি আসনেই BJP এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০৯টি আসনের প্রত্যেকটির জন্য টিকিটের আবেদন করছেন প্রায় ১০ জন করে। ফলে আমরা এখন শাসকদল, আমাদের সঙ্গে তো অন্যরা জোট করতে চাইবেই। অনেকেই আসতে চায়। তবে আমরা একাই লড়ব।”
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে বিয়ে করছেন দীপ্সিতা ধর? জল্পনার মাঝেই মুখ খুললেন বাম নেত্রী
প্রার্থী হওয়ার আবেদন গ্রহণের পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও করেছে বিজেপি। যুবসমাজকে শুধু ভোটার হিসেবে নয়, শহরের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার অংশীদার হিসেবেও যুক্ত করতে চায় দল। সেই লক্ষ্যে ওয়ার্ডভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা বোঝা এবং তার সমাধানের রূপরেখা তৈরির কথা জানিয়েছেন সুকান্ত। শহরের পরিকাঠামো, গণপরিবহণ, নিকাশি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও ঐতিহ্যবাহী এলাকার পরিচয় বজায় রাখার মতো বিষয়গুলিও বিজেপির পুরভোটের পরিকল্পনায় জায়গা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।