প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাড়িতে মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে আর্থিক প্রতারণা! দুর্গাপুরের (Durgapur) একটি ভাড়া বাড়িতে অফিস খুলে দীর্ঘদিন ধরে এই কারবার চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিহারের একটি দলের (OTP Fraud Case In Durgapur) বিরুদ্ধে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই ভাড়া বাড়িতে হানা দেয় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে তিন যুবতী-সহ সাতজনকে। উদ্ধার হয়েছে বহু নকল পরিচয়পত্র, সিম কার্ড, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ল্যান ফোন-সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী।
টাওয়ার বসানোর নামে চলত সাইবার প্রতারণা
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্গাপুরের বেনাচিতিতে একটি ভাড়া বাড়িতে অফিস খুলে দীর্ঘদিন ধরে টাওয়ার বসানোর নাম করে মোটা টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাইবার প্রতারণা চালাচ্ছিল বিহারের একটি দল। এই কাজে নাকি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার যুবক-যুবতীরাও যুক্ত ছিল। অভিযোগ, মোবাইল পরিষেবা সংস্থার টাওয়ার বসানোর নাম করে বাড়ি বা জমির মালিকদের মোটা টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হত। আর সেই প্রস্তাবে রাজি হলে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছ থেকে ওটিপি চাওয়া হত বলে অভিযোগ। এরপর ওই ওটিপি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হত।
গ্রেফতার ৭ জন
দুর্গাপুরের বহু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এরপর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঘটনার তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশের সাইবার বিভাগের সহযোগিতায় দুর্গাপুরের এ-জোন ফাঁড়ির পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানো হয়। তখনই ওই বাড়ি থেকে তিন যুবতী-সহ সাতজনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে বহু নকল পরিচয়পত্র, সিম কার্ড, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ল্যান ফোন-সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী। জানা যাচ্ছে, ওই ভাড়া বাড়িতে বসেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফোন করত যুবক-যুবতীরা। আর চোখের নিমেষে খোয়া যেত লক্ষ লক্ষ টাকা।
আরও পড়ুন: স্কুলে পঞ্চম শ্রেণী থেকেই ফিরছে পাশ-ফেল! বিশেষ প্রস্তাব সিলেবাস কমিটির
গ্রেফতারি প্রসঙ্গে, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) রাসপ্রিত সিং জানিয়েছেন, “আমাদের কাছে খবর ছিল, এই প্রতারকরা এখানে বসেই এই কাজ করছে। আমাদের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে।” তবে তদন্ত শেষ হয়নি, এই চক্রের মাথা কে বা কারা? কোথা থেকে অপারেট করা হত সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।