আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: শিক্ষকতার (School Teacher) চাকরি করতে চান যাঁরা, তাঁদের জন্য বড় সুযোগ। রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাধ্যমিক স্কুলগুলিতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। মোট ১৭,৭৩৫টি শূন্যপদে হতে চলেছে শিক্ষক নিয়োগ। আপনিও কি আবেদন করতে ইচ্ছুক? বেতন থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতা, এই প্রতিবেদনে রইল আবেদনের সম্পূর্ণ পদ্ধতি।
উত্তরপ্রদেশের শিক্ষা পরিষেবা নির্বাচন কমিশন (Uttar Pradesh Education Service Selection Commission)-এর তরফে ২০২৬ সালের প্রশিক্ষিত স্নাতক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
কোন কোন পদে নিয়োগ হবে?
এই নিয়োগে বিভিন্ন বিষয়ের প্রশিক্ষিত স্নাতক সহকারী শিক্ষক নেওয়া হবে। ছেলেদের স্কুল এবং মেয়েদের স্কুলের জন্য আলাদা শূন্যপদের উল্লেখ রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছেলেদের স্কুলের জন্য ১৬,১৯৩টি পদ উল্লেখ করা হয়েছে এবং মেয়েদের স্কুলের জন্য রয়েছে ১,৫৪২টি শূন্যপদ। বিষয়ভিত্তিক নিয়োগের তালিকায় হিন্দি, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, সংস্কৃত, গৃহবিজ্ঞান, শারীরশিক্ষা, অঙ্কন, জীববিজ্ঞান, কৃষি, বাণিজ্য, উর্দু, সঙ্গীত এবং অন্যান্য বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
এই পদে আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। তবে সব বিষয়ের জন্য একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। বিষয় অনুযায়ী স্নাতক ডিগ্রি, নম্বর এবং শিক্ষক-প্রশিক্ষণের শর্ত আলাদা হবে।
সাধারণভাবে প্রার্থীদের যে বিষয়গুলি যাচাই করতে হবে, সেগুলি হল,
- স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অথবা বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সমতুল্য যোগ্যতা।
- সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম নম্বর।
- যেখানে বাধ্যতামূলক, সেখানে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের বি.এড. বা নির্ধারিত শিক্ষক-প্রশিক্ষণের যোগ্যতা।
- নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, হিন্দি বা সংস্কৃতের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বিষয় নির্বাচনের শর্ত থাকতে পারে। তাই শুধু স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই আবেদন করা যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বয়সসীমা কত?
প্রকাশিত নিয়োগ-তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের হিসাবে আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স ২১ বছর হতে হবে। একই সূত্রে সর্বোচ্চ বয়স ৬২ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।
বয়সে ছাড় পাওয়া যাবে কি?
সংরক্ষিত শ্রেণি এবং বিশেষ বিভাগের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বয়সে ছাড় থাকতে পারে। তবে কোন শ্রেণির প্রার্থী কত বছর ছাড় পাবেন, তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্তের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
বেতন কত পাওয়া যাবে?
এই নিয়োগে বেতনক্রম পে ম্যাট্রিক্সের সপ্তম স্তর অনুযায়ী নির্ধারিত বলে প্রকাশিত হয়েছে। বেতন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি হল,
- পে লেভেল: সপ্তম স্তর।
- বেতনক্রম: ৪৪,৯০০ টাকা থেকে ১,৪২,৪০০ টাকা।
- অন্যান্য ভাতা: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য ভাতা দেওয়া হবে।
আবেদন ফি কত?
প্রকাশিত নিয়োগ-তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক আবেদন ফি নিম্নরূপ,
- সাধারণ শ্রেণি: ১,০০০ টাকা।
- অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি: ১,০০০ টাকা।
- আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণি: ১,০০০ টাকা।
- তফসিলি জাতি: ৫০০ টাকা।
- তফসিলি জনজাতি: ৫০০ টাকা।
- প্রতিবন্ধী প্রার্থী: ৩০০ টাকা।
আবেদন ফি জমা দেওয়ার জন্য অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা রয়েছে।
আবেদন শুরুর ও শেষের তারিখ
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলি হল,
- অনলাইনে আবেদন শুরু: ২৪ অক্টোবর ২০২৬।
- আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ২৩ নভেম্বর ২০২৬।
- আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ২৩ নভেম্বর ২০২৬।
- আবেদন সংশোধনের শেষ তারিখ: ২৬ নভেম্বর ২০২৬।
- লিখিত পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ: ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর ২০২৬।
শেষ দিনের জন্য ফেলে না রেখে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো। পরীক্ষার তারিখ বা আবেদনসংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন হলে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
এই নিয়োগে আবেদন করতে হবে অনলাইনে। আবেদন করার জন্য নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করা যেতে পারে।
- প্রথম ধাপ: উত্তরপ্রদেশ শিক্ষা পরিষেবা নির্বাচন কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইট https://upessc.up.gov.in খুলুন।
- দ্বিতীয় ধাপ: ওয়ান টাইম রেজিস্ট্রেশন বা ওটিআর প্রক্রিয়া শেষ করুন।
- তৃতীয় ধাপ: টিজিটি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি নম্বর ০৭/২০২৬ খুঁজে বের করুন।
- চতুর্থ ধাপ: আবেদন সংক্রান্ত লিঙ্কে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ পূরণ করুন।
- পঞ্চম ধাপ: বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া ছবি, স্বাক্ষর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন।
- ষষ্ঠ ধাপ: নিজের শ্রেণি অনুযায়ী নির্ধারিত আবেদন ফি জমা দিন।
- সপ্তম ধাপ: আবেদনপত্রের সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে চূড়ান্তভাবে জমা দিন।
- অষ্টম ধাপ: আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদনপত্রের কপি এবং পেমেন্টের প্রমাণ নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন।
আবেদন জমা দেওয়ার আগে নাম, জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য তথ্য প্রামাণ্য নথির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
কীভাবে হবে নির্বাচন?
প্রকাশিত নিয়োগ-তথ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার কয়েকটি ধাপের উল্লেখ রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে,
লিখিত পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার বা মৌখিক পরীক্ষা, নথি যাচাই এবং মেধাতালিকা তৈরি
পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার আগে প্রার্থীদের সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে পরীক্ষার প্যাটার্ন ও সিলেবাস দেখে নেওয়া প্রয়োজন। এতে কোন বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দিতে হবে, তা বুঝতে সুবিধা হবে।
কোন কোন নথি প্রস্তুত রাখবেন?
আবেদনের সময় এবং পরবর্তী নথি যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো। প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নথিগুলি হতে পারে,
- মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষার সার্টিফিকেট।
- স্নাতক ডিগ্রির সার্টিফিকেট ও মার্কশিট।
- স্নাতকোত্তর ডিগ্রির নথি, যদি সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার জন্য প্রয়োজন হয়।
- বি.এড. বা নির্ধারিত শিক্ষক-প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট, যেখানে প্রযোজ্য।
- শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষার সার্টিফিকেট, যদি সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার জন্য প্রয়োজন হয়।
- সাম্প্রতিক ছবি ও স্বাক্ষর।
- সংরক্ষিত শ্রেণির সুবিধা দাবি করলে বৈধ জাতিগত বা সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট।
- প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শংসাপত্র।
- বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া অন্যান্য পরিচয় ও যোগ্যতার প্রমাণপত্র।
আরও পড়ুন: ফিরহাদের রাজনৈতিক সন্ন্যাস, বিমান দুর্ঘটনা…! আজকের সেরা ১০ খবর (২৪ অক্টোবর)
আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলি মনে রাখবেন
প্রথমত, নিজের বিষয় অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা নিশ্চিত করুন।
দ্বিতীয়ত, বয়সের শর্ত এবং প্রযোজ্য ছাড়ের নিয়ম যাচাই করুন।
তৃতীয়ত, আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর তার প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।