সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারকে হারিয়ে ক্ষমতায় এলেও সেই সবুজ শিবিরের নেতারাই এখন যোগদান করছেন বিজেপিতে। এমনকি তৃণমূলের বিধায়ক থেকে শুরু করে সাংসদরা পর্যন্ত এখন বিজেপির ছত্রছায়ায়। এদিকে সামনেই পুরভোট। তার আগে তৃণমূলের বেশ কিছু নেতা বিজেপির টিকিটে দাঁড়াতে পারেন বলে জল্পনা চলছিল, যা নিয়ে মুখ খোলেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তব বাগচী। এমনকি তিনি প্রকাশ্যে বিজেপি দফতরের সামনে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তবে এবার তাঁকেই তুলোধোনা করে ছাড়লেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
কৌস্তব বাগচীকে তুলোধোনা দিলীপ ঘোষের
সম্প্রতি বিজেপির নেতা মনীষ শুক্লার খুনের প্রসঙ্গ টেন অর্জুন সিংকে আক্রমণ করেন কৌস্তব বাগচী। মিডিয়ার সামনে সেদিন তিনি জানিয়েছিলেন, “আমাদের কিছু লোকের সঙ্গে মনীষ শুক্লার হত্যাকারীদের দেখা যাচ্ছে। এগুলো দেখতে ভালো লাগছে না। অর্জুন সিংয়ের প্রতি আমার ব্যক্তিগত কোনও রাগ নেই। তিনি বড় নেতা। আমাদের অভিভাবক। কিন্তু আপনার সঙ্গে এদের ছবি দেখতে ভালো লাগে?”
এমনকি তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে কোনও অবস্থাতেই উত্তম এবং প্রশান্তকে বিজেপিকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “উত্তম দাস, প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপিতে আসতে দেব না, দেব না, দেব না। যেটা আমি প্রতিজ্ঞা করি, ওখান থেকে আমাকে সরানোর ক্ষমতা, আমাকে টলানোর ক্ষমতা কারও নেই।”
এর আগেও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মাথা কামিয়ে রেখেছিলেন। এমনকি বিজেপি সরকার ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত মাথায় চুল গজায় দেবেন না বলেই প্রতিজ্ঞা করেন তিনি। তবে এবার দরকারে বিজেপির রাজ্য দফতরের সামনেই আত্মহত্যা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৌস্তব। তার পরিপ্রেক্ষিতেই স্পষ্ট বার্তা দিলীপ ঘোষের।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে পড়তে গিয়ে আব্দুলের সাথে প্রেম, বিয়ের পর নির্যাতিত
মিডিয়ার সামনে মঙ্গলবার দিলীপ ঘোষ বলেন, “উনি তো কংগ্রেস থেকে এসেছেন। কে আসবে না আসবে সেটা পার্টির যারা অথরিটি আছে তাঁরা দেখবেন। এসব নিয়ে তো সবার চিন্তা করার দরকার নেই। উনি ওনার মতো বলছেন। উনি কি করে এলেন বিজেপিতে? উনি তো বিজেপিতে ছিলেন না। উনি যদি আসতে পারেন তাহলে অন্যরাও আসতে পারবেন। পার্টির ইমেজ, পার্টির আদর্শবাদের সঙ্গে মিলছে কিনা এটাই দেখতে হবে।”