অনন্যা সরকার, কলকাতা: পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন (Eastern Railway Sealdah Division) ভারতীয় রেলের (Indian Railways) অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষকে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ায় ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে রেলের এই ডিভিশন। যদিও প্রায়শই শিয়ালদহে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা (Punctuality) নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ করতে দেখা যায়। তবে, সম্প্রতি যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব ও গৌরবময় নজির স্থাপন করেছে ঐতিহাসিক এই শাখা।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে, শিয়ালদহ ডিভিশন টানা তিন দিন ২৪, ২৫ ও ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ – মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন পরিচালনায় ১০০ শতাংশ সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখার এক ঐতিহাসিক কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এই কৃতিত্বের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়েছে পূর্ব রেল। কর্তৃপক্ষ এটিকে একটি নিখুঁত ‘হ্যাটট্রিক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
শিয়ালদহ ডিভিশনের বড় সাফল্য
অত্যন্ত ঘন ও জটিল রেল নেটওয়ার্কের মধ্যে ১০০ শতাংশ সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। তবে শিয়ালদহ ডিভিশন প্রমাণ করেছে যে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও দৃঢ় মানসিকতা থাকলেবো একপ্রকার অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। পূর্ব রেল অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সাফল্যের কথা তুলে ধরেছে। টানা তিন দিন প্রতিটি ট্রেন সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করা রেলের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।
আরও পড়ুন: পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ অবসরপ্রাপ্তরা, মিটবে সমস্যা?
পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই অসাধারণ সাফল্য রেলের সকল স্তরের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রতিফলন। এটি কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়, বরং সমন্বিত দলগত প্রচেষ্টার ফসল। ট্র্যাফিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা তদারকি করা থেকে শুরু করে রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণ এবং লোকো পাইলট ও স্টেশন মাস্টারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই টানা তিনদিন এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে তৎপরতা, BSF-কে জমি দিতেই শুরু হল বেড়া নির্মাণের কাজ
এই সাফল্য রেলের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করার পাশাপাশি, রেল পরিষেবার প্রতি যাত্রীদের ভরসাও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উৎসবের মরশুম হোক বা সাধারণ দিন – প্রতিটি যাত্রীরই প্রত্যাশা থাকে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো। তাই শিয়ালদহ ডিভিশনের এই সাফল্য দেশের অন্যান্য রেল ডিভিশনের কাছে একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। নিত্যযাত্রীরা এখন আশা করছেন যে, ভবিষ্যতে রেল পরিষেবার এই নিরাপদ ও সময়ানুবর্তী ধারা অব্যাহত থাকবে।