আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: কালীপুজোর আনন্দে বাজি পোড়ানোর রেওয়াজ থাকলেও তার জেরে প্রতি বছরই বাড়ে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ। অতিরিক্ত শব্দে সমস্যায় পড়েন শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষ। আতঙ্কিত হয় পোষ্য এবং পথের পশুপাখিরাও। তার উপর বেআইনি বাজির ব্যবহার থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। এই সমস্ত সমস্যা রুখে কালীপুজোকে (Kali Puja) আরও নিরাপদ করে তুলতে বৃহস্পতিবার নবান্নে (Nabanna) বৈঠক করলেন স্বরাষ্ট্র সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা।
নজরে অবৈধ বাজি বিক্রি ও শব্দদূষণ
নবান্নের এই বৈঠকে মূলত অবৈধ বাজির বিক্রি বন্ধ করা, নিষিদ্ধ শব্দবাজির ব্যবহার রোখা এবং উৎসবের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাজি বাজার থেকে শুরু করে বাজি তৈরির এলাকাগুলিতেও নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। পুরসভার তরফে বাজি বাজারে বিক্রি হওয়া বাজি পরীক্ষা করে অবৈধ বাজি চিহ্নিত করা হবে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া বাজি তৈরি বা বিক্রি করলে তা বরদাস্ত করা হবে না। স্বরাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য, শুধু পুলিশের পদক্ষেপের অপেক্ষায় না থেকে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।
কালীপুজোয় কী কী নিয়ম মানতে হবে?
প্রশাসনের তরফে কয়েকটি বিষয়ে কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল–
- অবৈধ বাজি বিক্রি বন্ধ: বৈধ লাইসেন্স ছাড়া বাজি তৈরি ও বিক্রি করা যাবে না। বেআইনি বাজি ধরা পড়লে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
- নির্দিষ্ট সময় মেনে বাজি পোড়ানো: প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি পোড়ানো যাবে না।
- হাসপাতালের কাছে নিষেধাজ্ঞা: হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দবাজি পোড়ানো যাবে না।
- সাইলেন্স জোনে শব্দবাজি নয়: নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত জায়গাগুলিতে শব্দবাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ।
- অভিযোগ জানাতে কন্ট্রোলরুম: শব্দদূষণ বা নিয়মভঙ্গের অভিযোগ জানাতে একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হবে। দু-তিন দিনের মধ্যে হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা।
আরও পড়ুন: মহিলাকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কুপ্রস্তাব ভগবানপুরের বিজেপি নেতার, ভাইরাল অডিও
নিয়ম ভাঙলে কী শাস্তি?
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে গ্রেফতারিও হতে পারে। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, কালীপুজো ও দীপাবলির সময় নিষিদ্ধ বাজি পোড়ানো এবং অন্যান্য আইনভঙ্গের ঘটনায় কলকাতা পুলিশ ৬৪০ জনকে গ্রেফতার করেছিল। তাঁদের মধ্যে ১৮৩ জনকে নিষিদ্ধ বাজি পোড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। প্রায় ৮৫০ কেজি নিষিদ্ধ বাজিও বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। ফলে এ বছরও নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এবারে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট জরিমানা বা কারাদণ্ডের মেয়াদ ঘোষণা করা হয়নি।
আরও পড়ুন: প্রয়োজনে সাসপেন্ড! আবাস যোজনা, কৃষক বন্ধুসহ একাধিক প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কালীপুজো মানেই আলোর উৎসব, আনন্দ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। মাস ঘুরলেই ফের সেই উৎসবের আবহ তৈরি হবে। কিন্তু সেই আনন্দ যেন অন্যের বিপদের কারণ না হয়ে ওঠে, সেটাই প্রশাসনের মূল বার্তা। বিশেষ করে অতিরিক্ত শব্দ ও ধোঁয়ায় শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ মানুষ এবং পশুপাখিদের যে সমস্যা হয়, তা মাথায় রাখা জরুরি। উৎসবের আনন্দে পোষ্য ও পথের প্রাণীদের ভয় এবং কষ্টের কথাও ভুলে গেলে চলবে না। তাই বাজি পোড়ানোর বদলে আলো, প্রদীপ ও অন্যান্য নিরাপদ উপায়ে উৎসব উদ্যাপনের বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। আনন্দ হোক সকলের, কিন্তু কারও ক্ষতি করে নয়।