সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চাকরির নিয়োগে (Government Job) চরিত্র বা পূর্বপরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এবার বিরাট বদল আনল রাজ্য সরকার। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সহিংস উপায়ে বর্তমান শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন কিংবা রেজিম চেঞ্জের মতো কার্যকলাপে জড়িত কোনও প্রার্থীকে রাজ্যের সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আর যোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে না। এমনকি একই সঙ্গে দীর্ঘায়িত কমাতে পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার চরিত্র যাচাইয়ের কাজ সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যেই শেষ করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম রাজ্য সরকারের
সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশে নিয়োগ এবং কর্মী বিভাগের প্রধান সচিব এম দেবরাজ এই সরকারি নির্দেশিকা জারি করেছেন। রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর, নিগম পরিষদ এবং স্থানীয় সংস্থার সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে বলেই জানানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কেবলমাত্র ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা বা মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে কোনও প্রার্থীর নিয়োগ আটকানো যাবে না। কিন্তু যদি কোনও প্রার্থী যদি এমন কোনও সংগঠনের সদস্য হন, যার হিংসাত্মক পন্থায় বর্তমান গণতান্ত্রিক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে উৎখাত করার লক্ষ্য থাকে, তাহলে তিনি সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্য হবেন।
এমনকি এক্ষেত্রে তিন বছরের একটি পর্যবেক্ষণ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি ২১ বছর বয়সের পর এবং তদন্তের তারিখের আগের তিন বছরের মধ্যে কোনও প্রার্থী এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে থাকেন, তাহলে তার মনোভাব বা আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রমাণ না থাকলে সক্রিয় কর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এদিকে সংশোধিত কাঠামোর আওতায় একগুচ্ছ গুরুতর অপরাধকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সেক্ষেত্রে খুন, ডাকাতি ও ধর্ষণ, নারীর সম্মানহানি বা শ্লীলতাহানি, দুর্নীতি বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বা জাল পরীক্ষার্থী ব্যবহারের মতো কোনও প্রতারণা, ভুয়ো শংসাপত্র জমা দেওয়া, ডিজিটাল অ্যারেস্ট স্ক্যাম, ইউপিআই জালিয়াতির মতো সাইবার ক্রাইম আর্থিক তছরুপ বা মাদক চোরাচালান এবং সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তিনি আর সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগ পাবেন না। কিন্তু সরকার আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, কারও বিরুদ্ধে কেবলমাত্র এফআইআর দায়ের হওয়া বা তদন্ত বিচারাধীন থাকার অর্থ তাঁর প্রার্থীপদ বাতিল নয়।
আরও পড়ুন: মার্কিন ডলারের বিপরীতে দাম বাড়ল ভারতীয় রুপির, দেখুন রেট
এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি আনতে পুলিশ আর লোকাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে রিকুইজেশন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই ভেরিফিকেশন রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেলে গোটা বিষয়টি সরাসরি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।