প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল বাঁকুড়ায় (Bankura)। ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হল পুলিশ ইনস্পেক্টর জয়ন্ত পাল। শুক্রবার সন্ধ্যায় রেললাইনের ধারে তাঁর ছিন্নভিন্ন দেহকে (Bankura Police Inspector Death) কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। কিন্তু এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা, নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ লুকিয়ে রয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তে নামল পুলিশ।
উদ্ধার পুলিশ ইন্সপেক্টরের দেহ
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, সন্ধ্যায় বাঁকুড়া শহরের কেঠারডাঙা রেলগেটের কাছ থেকে বছর ৪১-এর জয়ন্ত পাল নামে এক পুলিশ ইন্সপেক্টরের দেহ রেললাইনের ধারে পড়ে ছিল। আরণ্যক এক্সপ্রেসের চাকায় কাটা পড়েছিলেন তিনি। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনা, না কি আত্মহত্যা সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এমনকি ইনস্পেক্টরের মৃত্যুর নেপথ্যের কারণ নিয়েও ধন্দে রয়েছে পুলিশ। তাই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত করেছে পুলিশ।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
জানা গিয়েছে, পুলিশ ইনস্পেক্টর জয়ন্ত পালের বাড়ি আসানসোল উত্তর থানা এলাকায়। ইতিমধ্যেই তাঁর এই মৃত্যুর খবর পরিবারকে দেওয়া হয়েছে। তিনি সম্প্রতি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন কি না, কারও সঙ্গে তাঁর শত্রুতা ছিল কি না, এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি তদন্তের খাতিরে পরিবারের পাশাপাশি তাঁর অফিসার সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলছেন পুলিশ। হুগলী জেলার খানাকুল,চন্ডীতলা, সিঙ্গুর-সহ একাধিক থানার দায়িত্ব সামলেছেন। সম্প্রতি বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন জয়ন্ত।
আরও পড়ুন: রাজুদার পরোটার দোকানে হঠাৎ হানা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের
এর আগে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হাওড়ার ঘোষ পাড়া পেট্রল পাম্পের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জয়ন্ত। সেই সময় তিনি হুগলির চণ্ডীতলা থানার আইসি পদে কর্মরত ছিলেন। জয়ন্তের বাঁ হাতে গুলি লেগেছিল। ঘটনার সময় নাকি ওই আধিকারিকের সঙ্গে এক মহিলা ছিলেন। তাঁর সঙ্গে নাকি সমাজমাধ্যমে আলাপ হয়েছিল জয়ন্তের। এই নিয়ে ঝামেলা অশান্তি বাড়তেই পরে জয়ন্তকে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করেছিল রাজ্য পুলিশ। নির্দিষ্ট সময় পর তিনি আবার কাজে ফেরত আসেন।