অনন্যা সরকার, বিহার: সুপরিকল্পনা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম করার ক্ষমতা থাকলে যে সামান্য অর্থ লগ্নি করেও বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলা যায়, তা প্রমাণ করে দেখেছেন বিহারের গয়ার বাসিন্দা শশী কুমার (Success Story of Agripreneur Shashi Kumar)। তিনি আর্থিক প্রতিকূলতাকে জয় করে মৌমাছি পালন ও মধু প্রক্রিয়াকরণের ওপর ভিত্তি করে কোটি কোটি টাকার একটি ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। তাঁর এই ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কে প্রায় ২৫০ জন মৌমাছি পালনকারী যুক্ত আছেন, যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ২৫০টিরও বেশি সংসার প্রতিপালন করছে।
চরম আর্থিক অনটন থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী
একটা সময় ছিল যখন সংসারের খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে শশী কুমারের স্ত্রী অনিতা রানীকে নিজের গয়না বন্ধক রাখতে হয়েছিল। এই ঘটনা তাঁকে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে। ১৯৯৫ সালে মাত্র ১০টি মৌমাছির বাক্স নিয়ে তিনি তাঁর এই উদ্যোগ শুরু করেন। জানা গেছে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে মৌমাছি পালনের এই ব্যবসাটি শুরু করেছিলেন।
শুরুতে কারিগরি জ্ঞানের অভাবে তাঁকে লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছিল। পরবর্তীতে, খাদি বোর্ডের একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ও পুষার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হন। তাঁর ব্যবসার প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল মধু পাইকারি বাজারে বিক্রি না করে নিজের ব্র্যান্ড ‘শিভা হানি’ (Shiva Honey)-এর নামে প্যাকেটজাত করে বাজারে আনা। এই প্যাকেটজাতকরণের কাজে তাঁর স্ত্রী অনিতাও তাঁকে সহায়তা করতেন।
আরও পড়ুন: সেচের খরচ কমে ২০% বাড়ল ফলন, ধান ও মিলেট চাষে ব্যাপক সাফল্য বাঁকুড়া থেকে পুরুলিয়ায়
বর্তমানে তাঁর কোম্পানি, ‘শিভা এগ্রো ন্যাচারাল প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মধু সরবরাহ করে। শশী কুমার জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ লিটার মধু কেনাবেচা করে। এর পাশাপাশি, তিনি মধু চাষীদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও তাঁদের বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার কাজেও সক্রিয়ভাবে জড়িত।
বর্তমানে তিনি ‘ডোবি ইন্টিগ্রেটেড ম্যানুফ্যাকচারিং সিটি’-তে মোট ১৬১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে, যার মধ্যে ৫১ কোটি টাকা মধু উৎপাদনে এবং ১১০ কোটি টাকা বস্ত্র শিল্পে বিনিয়োগ করা হবে। এ ছাড়াও তিনি শিক্ষাক্ষেত্রসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। মৌমাছি পালক ও উদ্যোক্তা হিসেবে অবদানের জন্য একাধিক সম্মানে ভূষিত শশী কুমার প্রমাণ করেছেন যে অধ্যবসায়, সঠিক প্রশিক্ষণ এবং সুপরিকল্পিত মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির মাধ্যমে কীভাবে একটি কৃষিভিত্তিক উদ্যোগকে কর্মসংস্থানের একটি বড় উৎসে পরিণত করা যায়।