সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মার্কিন ডলারের বিপরীতে দাম বাড়ল ভারতীয় রুপির (Indian Rupee)। গত কয়েক দিনের লাগাতার পতন কাটিয়ে অবশেষে মার্কিন মুদ্রার বিপরীতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশীয় টাকা। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে তেলের দামের সামান্য পতনে আজ শক্তি ফিরে পেয়েছে ভারতীয় রুপি। সর্বশেষ লেনদেন পর্বে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি ২৯ পয়সা শক্তিশালী হয়ে ৯৪.৩৫-তে স্থির হয়েছে। যদিও আর্থিক বিশেষজ্ঞরা মুদ্রা বিনিময়ের হারকেই টাকার শক্তিশালী হওয়ার পিছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হল ভারতীয় রুপি
প্রথমেই বলে রাখি, টানা পঞ্চম দিনের মতো বৃহস্পতিবার শক্তিশালী অবস্থান থেকে লেনদেন শুরু করেছে ভারতীয় রুপি। অপরিশোধিত তেলের দামের পতনের ফলেই ভারতের আমদানি ব্যয় এবং মুদ্রার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে আসার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি। পাশাপাশি মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর বাজার পরিস্থিতি আরও উন্নত হয়েছে। যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তেলের দাম অনেকটাই কমেছে।
না বললেই নয়, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং অধিকাংশ এশিয়া মুদ্রার উত্থানকে অনুসরণ করেই দেশীয় মুদ্রা আজ প্রতি ডলারের বিপরীতে ৯৪.৩৫ টাকায় লেনদেন শুরু হয়েছে, যা বুধবার বন্ধের দর অর্থাৎ ৯৪.৬৪-র তুলনায় অনেকটাই বেশি। এদিকে আগের সেশনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৮.৫% কমে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। বৃহস্পতিবার এটি প্রায় ৯৪.২০ ডলারে লেনদেন শুরু হয়, যা বিগত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২০% কম। তেলের দামের এই অস্বাভাবিক পতনের জেরেই আজ দেশীয় মুদ্রার মান ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ধনতেরাসের আগে ফের বদলে গেল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট
অন্যদিকে ডলার সূচক যেটি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান পরিমাপ করে থাকে, তা আগের সেশনে ০.৩৬% পতনের পর বৃহস্পতিবার ০.০৬% কমে ১০১.৪১-তে নেমে এসেছে। তাছাড়া ইউরোর দাম ০.১২% বেড়ে ১.১২৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে শুধু ভারতীয় মুদ্রা নয়, সামগ্রিকভাবে দেখতে গেলে প্রত্যেকটি এশিয়া মুদ্রার দাম ডলারের বিপরীতে বেড়েছে। যার মধ্যে অন্যতম ছিল ফিলিপাইন পেসো এবং থাই বাত, যেগুলি যথাক্রমে ০.৩৬% এবং ০.৪২% বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া জাপানি ইয়েন এবং মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের মান অনেকটাই বেড়েছে।