বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভিডিয়োকন ইন্ডাস্ট্রিজ়ের ডিরেক্টর ছিলেন তিনি। সেই বেণুগোপাল নন্দলাল ধুতকে (Venugopal Dhoot) দেউলিয়া ঘোষণা করল ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইবুনাল। অভিযোগ ছিল, দেশের সর্ববৃহৎ পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক SBI এর কাছ থেকে 12 হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়ে তা মেটায়নি ভিডিয়োকন। পরবর্তীতে ধুতের কাছ থেকে ঋণের বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য এনসিএলটির দারস্ত হয়েছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। এবার দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কটির দায়ের করা FIR এর ভিত্তিতেই বেণুগোপালকে দেউলিয়া ঘোষণা করল মুম্বইয়ের জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইবুনাল।
ঋণ পরিশোধ না করে বিপাকে বেণুগোপাল
জানা গিয়েছে, SBI এবং তার সহযোগী আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার সময় ভিডিয়োকনের হয়ে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিতে ঋণ নিয়েছিলেন বেণুগোপাল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই ঋণ শোধ করতে পারেননি তিনি। ঋণ খেলাপির অভিযোগে চিহ্নিত করা হয় ভিডিয়োকনের প্রাক্তন কর্ণধারকে। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার হিসেব অনুযায়ী, গত 30 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুদ সহ মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছিল 12,668 কোটি টাকায়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, 2012 সালে নেওয়া একটি রুপি টার্ম লোনের বকেয়াও রয়েছে এই মোট ঋণের মধ্যে। অন্যদিকে ভিডিয়োকন টেলিকমিউনিকেশনসের ঋণ বাবদ বকেয়া রয়েছে 1,438 কোটি টাকা এবং ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য নেওয়া ঋণের পরিমাণ আবার 1,098 কোটি টাকা। SBI বলছে, তিন ধরনের ঋণের ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত গ্যারান্টি হিসেবে ছিলেন বেণুগোপাল ধুত। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই ঋণ পরিশোধ না করায় সেই দায় গিয়ে পড়েছে তাঁর কাঁধেই।
আরও পড়ুন: মহিলাকে যৌন নির্যাতন থেকে ভক্তের ফোন ফেলে দেওয়া, রোনাল্ডোর বিতর্কিত কর্মের তালিকা
প্রসঙ্গত, স্টেট ব্যাঙ্ক অভিযোগ দায়ের করার পরেই সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে ধুতের বিরুদ্ধে দেউলিয়া প্রক্রিয়া শুরু করে এনসিএলটি। আর সেই গোটা প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল ইনসলভেন্সি ট্রাস্টি। তাঁকেই ধুতের সম্পত্তি চিহ্নিত করে তা তাঁর পাওনাদারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।