সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: খাবার অর্ডার করে রিফান্ড নেওয়ার জন্য মানুষ চেয়ে এতটা নিচে নামতে পারে তা হয়তো কল্পনাও করেনি Zomato। হ্যাঁ, বাস্তব এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। সম্প্রতি Zomato-র সিইও দীপিন্দর গয়াল এক পডকাস্টে বিস্ফোরক তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এখন কিছু গ্রাহক এআই ব্যবহার করে খাবারের ছবি এডিট করে ভুয়ো অভিযোগ জানাচ্ছে এবং টাকা রিফান্ড নিচ্ছে। হ্যাঁ, খাবারের উপর মশা, মাছি সহ একাধিক বিষাক্ত পতঙ্গ বসিয়ে দিয়ে রিফান্ডের দাবি তুলছে তারা, যা কোম্পানির পক্ষে যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে (Zomato Scam)।
এআই দিয়ে বানাচ্ছে পোকা, মাছি
সম্প্রতি ইউটিউবার রাজ শামানির পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে দীপিন্দর গয়াল জানিয়েছেন, অনেকে খাবারের আসল ছবিতে এআই-এর সাহায্যে মাছি, পোকা বা ময়লা যোগ করে দিচ্ছে। কেউ কেউ আবার একদম ঠিকঠাক কেকের ছবিকেই এআই দিয়ে ভাঙা বা চ্যাপ্টা দেখাচ্ছে। হঠাৎ করে Zomato-তে এরকম অভিযোগ এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে তা সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরে খতিয়ে জানা যায়, এগুলি সবই এআই দিয়ে বানানো আর এসবের উদ্দেশ্য হলো ফ্রি রিপ্লেসমেন্ট পাওয়া এবং সম্পূর্ণ টাকা রিফান্ড নেওয়া।
পুরনো পদ্ধতিও কাজে লাগাচ্ছে মানুষ
তাঁর দাবি অনুযায়ী, শুধুমাত্র আধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং প্রতারণার পুরনো পদ্ধতিও এখনো বন্ধ হয়নি। সিইও জানিয়েছেন, কেউ নিজের চুল খাবার রেখে রেস্তোরাঁকে দোষ দিচ্ছে। এমনকি কেউ প্যাকেট খুলে নিজেই খাবার নষ্ট করে ছবি তুলছে। তারপর দাবি করছে, খাবার নাকি এরকম অবস্থাতে ডেলিভারি হয়েছে। আর এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা তো আরও জটিল। কারণ, রিফান্ডের টাকা শেষ পর্যন্ত রেস্তোরাঁ বা ডেলিভারি পার্টনারের পকেট থেকেই যায়।
এদিকে শুধু গ্রাহকদের দিক থেকে নয়, বরং দীপিন্দর গয়াল জানিয়েছেন, প্রতি মাসে প্রায় ৫০০০ ডেলিভারি পার্টনারকে Zomato প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আর কিছু ডেলিভারি পার্টনার অ্যাপে ডেলিভারি মার্ক করে খাবার না দিয়েই চলে যায়। পাশাপাশি ক্যাশ অন ডেলিভারি অর্ডারে কেউ কেউ বলে “খুচরো নেই”। সেক্ষেত্রে পুরো টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয় না। আর এই সমস্ত ঘটনায় গ্রাহকরা যেমন সমস্যায় পড়ে, তেমন কোম্পানিকেও পড়তে হয় বিপাকে।
আরও পড়ুন: কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ বাইক, বাস, সাইকেল চলাচল, বিকল্প বলে দিল পুলিশ
তবে বলে রাখি, এই সমস্ত অভিযোগ যাচাই করতে সম্প্রতি Zomato একটি বিশেষ সিস্টেম ব্যবহার করছে। আর সেটি হলো Karma Score। এই স্কোরের ভিত্তিতে দেখা যায়, গ্রাহকদের আগের অভিযোগের হিস্টরি এবং ডেলিভারি পার্টনারের রেকর্ড। যদি গ্রাহকদের অভিযোগের ইতিহাস বেশি হয় আর ডেলিভারি পার্টনারের রেকর্ড ভালো থাকে, তাহলে ডেলিভারি পার্টনারের দিকেই সেই সিদ্ধান্ত ঝোঁকে। আবার ডেলিভারি পার্টনারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলে গ্রাহককেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।