সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের আয়কর ব্যবস্থায় আসতে চলেছে এবার বিরাট পরিবর্তন। কেন্দ্র সরকার আগামী ১ এপ্রিল থেকে চালু করবে নতুন ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০২৫ (Income Tax Act 2025)। এর ফলে প্রায় ছয় দশক ধরে চালু থাকা ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ১৯৬১ এর জায়গায় আসবে নতুন আইন। এই পরিবর্তন কার্যকর করতে ইতিমধ্যে ড্রাফ্ট ইনকাম ট্যাক্স রুলস ২০২৬ প্রকাশ করা হয়েছে। আর সেখানে আইটিআর-১ থেকে আইটিআর-৭, সব রিটার্নেই এসেছে বড়সড় পরিবর্তন। বিস্তারিত জানতে পড়ুন প্রতিবেদনটি।
আইটিআর-১ এখন আরও সহজ
জানা গিয়েছে, এখন যে সমস্ত রেসিডেন্টের আয় বেতন থেকে বা একটি বাড়ির ভাড়া থেকে কিংবা ব্যাঙ্কের সুদ থেকে আসে, তারাই শুধুমাত্র আইটিআর-১ দাখিল করতে পারবে। তবে এখন ঠেকে প্রায় সকল করদাতাকেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হবে, আর ইভিসি বা ডিজিটাল সিগনেচার বাধ্যতামূলক। শুধুমাত্র ৮০ বছরের বেশি সুপার সিনিয়র সিটিজেনরা কাগজে ফাইল করার ছাড় পাবে।
আইটিআর-২ তে কী পরিবর্তন?
যাদের ব্যবসা নেই, কিন্তু আয় কাঠামো কিছুটা জটিল, তাদের জন্যই এই আইটিআর-২। বিশেষ করে বিদেশি আয়, সম্পদ বা একাধিক বাড়ি ও সম্পত্তি থাকা মালিকদের জন্য। তবে নতুন নিয়মে আইটিআর-১ এর সীমা ছাড়ালেই সরাসরি আইটিআর-২ ফাইল করতে হবে। আর বিদেশী সম্পদ বা ক্যাপিটাল গেইনেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আইটিআর-৩ এও বদল
ব্যবসা বা পেশা থেকে আয় থাকলে আইটিআর-৩ ফাইল করতে হয়। তবে নতুন নিয়মে অনুমানমূলক কর ব্যবস্থার সীমা ছাড়ালে বাধ্যতামূলক আইটিআর-৩ এর সুবিধা মিলবে। পাশাপাশি ক্যাপিটাল গেইন আরও বিস্তারিত হবে এবং স্পেশাল ইনকামের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, ব্যবসায়ী, উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের আরও বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।
আইটিআর-৪ আরও বেশি করাকর
এদিকে অনুমানমূলক কর ব্যবস্থার জন্য থাকা আইটিআর-৪ এ এবার আরও কঠোর শর্ত বসানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, এবার বিদেশী আয় বা সম্পদ, কোম্পানির ডিরেক্টর হওয়া, আনলিস্টেড শেয়ার থাকা বা ৫০ লক্ষ টাকার বেশি আয় হলে এই আইটিআর-৪ বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি দুটির বেশি গাড়ি বা আগের বছরের লস ক্যারি ফরওয়ার্ড থাকলেও আইটিআর-৪ তাদের জন্য। ফলে বহু ছোট ব্যবসায়ী বা পেশাজীবীকে এবার থেকে আইটিআর-৩ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আইটিআর-৫ এবং আইটিআর-৬ এ ডিজিটাল নজরদারি
এই দুই ফর্ম মূলত ফার্ম, এলএলপি কোম্পানি, ইত্যাদির জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে নতুন পরিবর্তনে এবার ডিজিটাল কমপ্লায়েন্স বাড়ানো হচ্ছে, ডেটা লিংকিং আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে আর কোম্পানিদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সিগনেচার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভোটের আগেই মিটল সব দ্বন্দ্ব! বিয়ে বাড়িতে একসাথে কল্যাণ-মহুয়া
আইটিআর-৭ এ কী পরিবর্তন?
চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যই ব্যবহার করা হয় আইটিআর-৭। তবে এতে এবার স্বচ্ছতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এখন বাধ্যতামূলকভাবে অনুদানের সম্পূর্ণ বিবরণ, তহবিল ব্যবহারের তথ্য আর অডিট রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই, করমুক্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যকলাপে কঠোর নজরদারি করা।