অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম Rejected! ফের বাড়ি বাড়ি যাবে আধিকারিকরা, বড় খবর

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) ফর্ম রিজেকশন নিয়ে তোলপাড় রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথমেই বলেছিলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো দুর্নীতি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে বরদাস্ত করা হবে না। শুধুমাত্র যোগ্য এবং প্রকৃত উপভোক্তারা যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পান, সেই ব্যবস্থাই করছে রাজ্য সরকার। এমনকি মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও জানিয়েছিলেন, যারা আয়কর প্রদান করেন কিংবা সরকারি চাকরি করেন তাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু যোগ্য সত্ত্বেও অনেকের বাতিল হয়ে যাচ্ছে আবেদন। এবার এই সমস্যা সমাধানের উপায় জানালেন মেদিনীপুরের বিধায়ক।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় আপডেট

আসলে এতদিন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের স্ট্যাটাস চেক করা যাচ্ছিল না। কিন্তু গত পরশুদিন সন্ধ্যা থেকেই সোশ্যাল রেজিস্ট্রির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লগইন করলে দেখা যাচ্ছে সিংহভাগ মহিলার অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্টে। যারা প্রকৃত, যোগ্য উপভোক্তা তাদের ফর্ম রিজেক্ট করে দেওয়া হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ জুলাই রাজ্যের মোট ১ কোটি ৯ লক্ষের বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছে ৩০০০ টাকা। এমনকি বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছে প্রায় ২৮ লক্ষের বেশি আবেদন। কিন্তু তাদের মধ্যে সিংহভাগ মহিলার নাম বাতিল হয়ে গিয়েছে।

এই সমস্যা সমাধানের জন্যই মেদিনীপুরের বিধায়ক ডক্টর শঙ্কর কুমার গুচ্ছাইত আজ জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম রিজেক্ট হওয়া নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। ৪ জুলাই থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবার আবেদনকারীদের তথ্য ও নথি যাচাই করা হবে। যারা অফলাইনের মাধ্যমে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন কিন্তু এখনও অনলাইনে আবেদন নথিভুক্ত হয়নি, তাদের আবেদন দ্রুত সরকারি পোর্টালে আপলোড করা হবে। এমনকি যে সমস্ত আবেদন অসম্পূর্ণ বা পূর্বে বাতিল হয়ে গিয়েছে সেগুলি পুনরায় পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ভাঙা পড়বে দিঘার ওয়েলকাম গেটের বিশ্ববাংলা লোগো, টেন্ডার ডাকল প্রশাসন

বিধায়ক আরও জানিয়েছেন, যাচাই, সুপারিশ এবং তথ্য আপলোডের কাজ ১০ জুলাইয়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে। কিন্তু আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার সংযুক্তকরণ বা অর্থ প্রধান সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট দফতর কিংবা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে। তবে তিনি আবেদনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, যাচাইয়ের সময় বাড়িতে উপস্থিত থেকে সঠিক তথ্য দিতে এবং প্রয়োজনে নথিপত্র দেখাতে। পাশাপাশি আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, রেশন কার্ড বা আধার সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য একসঙ্গে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি, এবং সবথেকে বড় ব্যাপার, গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন মেদিনীপুরের বিধায়ক। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মূল লক্ষ্য, যোগ্য কোনও উপভোক্তা যেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।

Leave a Comment