কেনেনি ফোন, ১৩ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে টাকা ফেরতের নির্দেশ রাজ্য সরকারের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে কর্মরত ১ লক্ষের বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী (Anganwadi Workers)। বিগত সরকারের আমলে তাদেরকে ফোন কেনার জন্য ১০,০০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। অনলাইনে একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করার জন্যই বাধ্যমূলক ছিল স্মার্টফোন। কিন্তু যেহেতু সিংহভাগ মহিলার কাছে স্মার্টফোন ছিল না, তাই রাজ্য সরকারের তরফ থেকেই (Government of West Bengal) তাদেরকে আর্থিক সাহায্য করা হয়। কিন্তু টাকা দেওয়া সত্ত্বেও ফোন কেনেননি ১৩ হাজারের বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। এবার তাদের টাকা ফেরত চাইল রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার।

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

তৃণমূল সরকারের তরফ থেকে ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছিল অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য। বাধ্যতামূলক ছিল ফোন কেনা। পোশান অ্যাপ ব্যবহার করে যাবতীয় কাজ করার জন্য স্মার্টফোন দরকার ছিল। সেই কারণেই এই টাকা দেওয়া হয় বিগত সরকারের তরফ থেকে। তবে প্রথম থেকেই স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করেছিল এক শ্রেণীর কর্মচারীরা। তা সত্ত্বেও চাপে পড়ে কিনতে বাধ্য হন মহিলারা। তারপর জল অনেক দূর গড়িয়েছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে একেবারে ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি।

রাজ্যে নতুন সরকার গঠন করার পরেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সূত্র ধরে এবার অঙ্গনওয়াড়ির ফাইল খুলে দেখা গিয়েছে, ১৩ হাজারের বেশি কিছু মহিলা টাকা পাওয়া সত্ত্বেও ফোন কেনেননি। সেই কারণে এবার বিভিন্ন জেলায় স্মার্টফোন কেনা বাবদ যে টাকা পড়ে রয়েছে তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নারী, শিশু ও সমাজ কল্যাণ দফতরের আইসিডিএস বিভাগ। এমনকি টাকা পাওয়া সত্ত্বেও কেন কর্মচারীরা ফোন কেনেননি তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: অভিষেকের দিনই বাজে কাজ করে ফেললেন বৈভব! আঘাত করলেন দর্শককে

আসলে স্মার্টফোন ছাড়া রাজ্য সরকারের তরফ থেকে চালু করা ওই অ্যাপে কাজ করা যাচ্ছিল না। সেই কারণেই মমতার সরকার মানবিক উদ্যোগ নেয়। কিন্তু টাকা পেয়েও যারা ফোন কেনেনি তাদের বরাদ্দ ফেরত চেয়েছে আইসিডিএস বিভাগ। এক আধিকারিকের কথায়, ১ লক্ষ ৪ হাজার ২৮৪ জনের মধ্যে মোট ৮৭.৫৪ শতাংশ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মচারী স্মার্টফোন কিনেছিলেন। বাকিদের হয়তো ফোন ছিল। সেই কারণে তারা ফোন কেনেননি। সেই ১৩ শতাংশ মহিলার টাকা এবার ফেরত চেয়েছে রাজ্য সরকার।

Leave a Comment