সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আরও নিঃস্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ঋতব্রত শিবিরের দিকে ঝুঁকলেন ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন (Mosarraf Hossain)। ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের শিবির। জানা গিয়েছে, এবার তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন, এবং তিনি ঋতব্রত নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই পা বাড়াচ্ছেন। রবিবার নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানিয়েছেন বিধায়ক।
পদ ছাড়লেন মোশারফ হোসেন
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দলের পদ ছাড়ার নেপথ্যে তাঁর মায়ের অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তাঁর সঙ্গে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল শিবিরের যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক, আর তাঁর নেতৃত্বের মাধ্যমে ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক কাজ করতে চান বলে। যার কারণে কালীঘাটের তৃণমূল শিবিরে যে আরও চাপে পড়ল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিকে নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হয় শুক্রবার। সেদিন বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন মোশারফ হোসেন। সেখান থেকেই সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। ক্রমশ ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে তিনি সম্পর্ক বাড়াচ্ছেন এমনটাই শোনা যাচ্ছিল গুঞ্জন। আর তাতেই অবশেষে পড়ল শিলমোহর। আজ সকালে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের জয়হাটের চেকপোস্ট এলাকার বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেই সে কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। এমনকি সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “রাজ্যে সরকার বদল হওয়ার কারণে আগের মতো কাজ করতে পারছি না। মা অসুস্থ। কয়েকদিন আগেই মক্কা থেকে বাড়ি ফিরেছেন। এই অবস্থায় বেশ কয়েকদিন ধরে বিধানসভায় যেতে পারছি না। তাই সংখ্যালঘুর দায়িত্ব আর নিতে চাই না।”
আরও পড়ুন: জাহাঙ্গীরের স্ত্রীর হয়ে সওয়াল করবেন না কোনও আইনজীবী, পুলিশি হেফাজতে রেজিনা
প্রসঙ্গত, ঋতব্রত শিবিরে ইতিমধ্যে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। তাঁর কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল শিবির একেবারে ভেঙে খানখান। ইতিমধ্যে উত্তর দিনাজপুরের ৫ তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে চারজন তাঁর শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। বাকি ছিলেন ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন। তিনিও এবার একই তালে তাল মিলিয়ে কালীঘাটের তৃণমূল শিবির ছেড়ে বিরোধী দলনেতার শিবিরে পা বাড়ালেন।