ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে আনতে মেনে চলুন এই টিপসগুলো

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: একাধিক ব্যস্ততার কারণে কম বেশি সকলের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে। আর তাতেই পাল্লা দিয়ে শরীরে (Health) বাড়ছে রোগের ছায়া, যার মধ্যে অন্যতম হল ইউরিক অ্যাসিড (High Uric Acid)। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে এই রোগের প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে, বাড়ছে চিন্তা। ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকলে গা হাত পায়ে অসহ্য ব্যথা, ফোলা ভাব বা গাউটের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এই ঝক্কি এড়াতে কেবল খাদ্যাভ্যাস বদলালেই চলবে না, জীবনযাত্রায় আনতে হবে সামান্য পরিবর্তন। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত

ইউরিক অ্যাসিড কমানোর ঘরোয়া টোটকা

  • ইউরিক অ্যাসিড কমানোর জন্য অ্যাপল সাইডার ভিনিগার বেশ কার্যকরী। আসলে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার শরীরে অ্যালকেলাইনের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যা ইউরিক অ্যাসিড কমানোর জন্য উপযোগী। অ্যাপল সাইডার ভিনিগারের মধ্যে শসা এবং আদার রস একসঙ্গে মিশিয়ে খেলেও বেশ উপকার হবে বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।
  • ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি পেলে কিডনির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এক্ষেত্রে কিডনির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে ভিটামিন সি। তাই প্রতিদিন ভিটামিন সি যুক্ত ফল খাওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের মতে আমলকি, পেয়ারা, লেবু, আপেল ইত্যাদি ফল শরীরের ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে।
  • যাঁদের ইউরিক অ্যাসিড বেশি, তাঁরা ভুলেও মেটে, পাঁঠার মাংস বা যেকোনও ‘রেড মিট’, তৈলাক্ত মাছ খাবেন না। তার বদলে প্রোটিন হিসাবে ডিম, দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম খাওয়া ভালো। এছাড়া সবুজ শাক সব্জিও বেশি করে খাওয়া উচিত শরীর সুস্থ রাখার জন্য। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ডায়েট চার্ট করা উচিত।
  • ইউরিক অ্যাসিড কমানোর মূল ওষুধ হল জল। দিনে প্রচুর জল পান করতে হবে, কারণ কিডনি জলের সাহায্যেই রক্ত থেকে ইউরিক অ্যাসিড বার করে আনে এবং তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বার করে দেয়। তাই দিনে ৮-১২ গ্লাস জল খাওয়া খুব জরুরি।

আরও পড়ুন: সাদা নাকি সর্ষের তেল? সুস্থ শরীরের জন্য কোনটা বেস্ট জানুন

  • প্রতিদিন ডাবের জল পান করা জরুরি, এতে একদিকে যেমন চুল ও ত্বক ভালো থাকে ঠিক তেমনই আবার শরীরে ইউরিক অ্যাসিড কমায়। এছাড়াও দইকে ঘোল বানানোর পরে অবশিষ্ট পাতলা জল কিডনি থেকে ইউরিক অ্যাসিড বার করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শসায় প্রচুর পরিমাণে জল থাকে, যা কিডনির ক্ষেত্রে খুব ভালো।
  • শুধু খাবারের দিকে খেয়াল রাখলেই হবে না। ইউরিক অ্যাসিডকে কাবু রাখতে হলে নিয়মিত শরীরচর্চা করাও জরুরি। এর জন্য জগিং, সাইক্লিং রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়, যা ইউরিক অ্যাসিড নির্গমনে সাহায্য করে।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আরও বিস্তারিত জানতে হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

Leave a Comment