অনন্যা সরকার, তেলেঙ্গানা: দেশকে ক্যাশলেস (Cashless) বানানোর জন্য কেন্দ্র সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারত ক্রমেই এমন একটি দেশ হয়ে উঠছে, যেখানে আগামী দিনে নগদ টাকার আর প্রয়োজনই পড়বে না, সমস্ত লেনদেনই ডিজিটাল পদ্ধতিতে হবে। তবে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার (Digital India) কথা উঠলেই, মানুষ এখনও দিল্লি, মুম্বাই এবং বেঙ্গালুরুর মতো মেট্রো শহরগুলির কথাই ভাবেন, যেখানে মানুষ স্বচ্ছন্দে ইউপিআই (UPI) ব্যবহার করে লেনদেন করেন। তবে জানেন কি এদেশেই রয়েছে এমন একটি গ্রাম, যা আজ নয় ১০ বছর আগেই সম্পূর্ণভাবে ক্যাশলেস (Cashless Village) হয়ে গেছে।
কীভাবে ক্যাশলেশ হয়ে উঠলো তেলেঙ্গানার গ্রাম?
তেলেঙ্গানার ছোট গ্রাম, ইব্রাহিমপুর ২০১৬ সালেই ক্যাশলেস গ্রামের তকমা পায়। যেসময় দেশের বেশিরভাগ মানুষ অনলাইন পেমেন্টের পদ্ধতির সাথেই সেভাবে পরিচিত হয়নি, সেসময়ই সিদ্দিপেট জেলার এই গ্রামটি সম্পূর্ণ ক্যাশলেস হয়ে যায়। আসলে ২০১৬ সালের আকস্মিক হওয়া নোটবন্দীর (Demonetization) জেরে সারা দেশে ব্যাংক এবং এটিএম-এর বাইরে নগদ টাকা তোলার জন্য লম্বা লাইন পড়ে যায় এবং হঠাৎই দেশে নগদ টাকার তীব্র সংকট শুরু হয়।
আরও পড়ুন: বাবার সামান্য মুদিখানার দোকান, অনটন উপেক্ষা করে একসাথে NEET উত্তীর্ণ তিন ভাইবোন
নোটবন্দীর এই কঠিন সময়ে ইব্রাহিমপুরের স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামবাসীরা একটি ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নেন। নগদ টাকার সংকটের সাথে মোকাবিলা করার বদলে গ্রামবাসীরা তাদের সম্পূর্ণ লেনদেন প্রক্রিয়াকেই ডিজিটাল করে ফেলেন। তাঁদের এই সিদ্ধান্তই পরবর্তীকালে গোটা দেশের কাছে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। ইব্রাহিমপুরের সাফল্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হল, শুধু তরুণ প্রজন্মই নয়, যেসমস্ত বয়স্ক বাসিন্দারা আগে ব্যাংকে যেতেও দ্বিধা করতেন, তাঁদেরও ডিজিটাল লেনদেনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: এক ট্রেনেই চিন সীমান্ত! উত্তরবঙ্গে জঙ্গলের বুক চিড়ে তৈরি হবে রেলপথ, অনুমোদন কেন্দ্রের
আরেকটি অবাক করা বিষয় হল, ইব্রাহিমপুর গ্রামকে নগদবিহীন করে তোলার জন্য ২০১৬ সালেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ডেবিট কার্ড (Debit Card) বিতরণ করা হয়, দোকানগুলিতে সোয়াইপ মেশিন বসানো হয় এবং নগদ টাকা জমা ও তোলার জন্য মাইক্রো এটিএমের (Micro ATM)-এর ব্যবস্থা করা হয়। ফলে দু’টাকা লজেন্স থেকে শুরু করে হাজার হাজার টাকার মুদিখানার জিনিস কেনা পর্যন্ত – প্রতিটি লেনদেনই এই গ্রামে নগদ টাকা ছাড়াই হয়। বর্তমানে ইব্রাহিমপুর শুধু ভারতেই নয়, সারা বিশ্বের কাছে ক্যাশলেশ ট্রানজাকশনের একটি মডেল হয়ে উঠেছে।