সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ডেঙ্গু প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিরাট পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ডেঙ্গুর জন্য একটি ভ্যাকসিন (Dengue Vaccine) বাজারে ব্যবহারের অনুমোদন পেল। ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া জাপানি সংস্থার টাকেডা বায়োফার্মাসিউটিক্যালের তৈরি QDENGA (TAK-003) ভ্যাকসিন ব্যবহারের সবুজ সংকেত দিয়েছে। আর এই টিকা ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী মানুষের জন্যই প্রযোজ্য, এবং বিশেষ করে টিকা নেওয়ার আগে ডেঙ্গু হয়েছিল কিনা তার কোনও পরীক্ষা করানোরও প্রয়োজন পড়বে না।
দুই ডোজেই সম্পূর্ণ সুরক্ষা
QDENGA (TAK-003) ভ্যাকসিন দুটি ডোজে দেওয়া হয়। আর প্রতিটি ডোজের পরিমাণ ০.৫ মিলিমিটার, যা ত্বকের নিচে ইনজেকশনের মাধ্যমেই প্রয়োগ করা হবে। প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজের মাধ্যমে তিন মাসের ব্যবধান রাখতে হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও এই ভ্যাকসিনের উদ্ভাবন করেছে জাপানের সংস্থা। কিন্তু মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের আওতায় এর উৎপাদন ভারতেই হবে। এর জন্য টাকেডা ও হায়দ্রাবাদভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা Biological E এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। আর ভারতে উৎপাদন হওয়া টিকা সরবরাহ দ্রুত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এর দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসতে পারে।
তবে সংস্থার দাবি, দেশের কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তা যাচাই করতে ফেজ-১, ফেজ-২ এবং ফেজ-৩ মিলিয়ে মোট ১৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হয়েছে। এমনকি এই সমস্ত পরীক্ষায় ২৮ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ করেন। এই গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে ভারতে ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি আলাদা সেরোটাইপ রয়েছে। আর QDENGA এমনভাবে তৈরি করা, যাতে এই চার ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধেই শরীর প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। যার ফলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আরও পড়ুন: “আমার কী দোষ ছিল” দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া পাথরে ভাঙল অটোর কাঁচ, ক্ষুব্ধ চালক
সবথেকে বড় ব্যাপার, বিশ্বের অন্যতম ডেঙ্গু প্রবণ দেশ হল ভারত। প্রতি বছর বর্ষাকাল এবং তার পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন রাজ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। তবে দ্রুত নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ার কারণে এই রোগের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর টিকার সংযোজন ভবিষ্যতে ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।