এক ফর্মেই পরিবারের সকলে পাবেন টাকা! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয় বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রা পালের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) নিয়ে এবার বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। এই প্রকল্প শুরু হওয়ার সময় বলা হয়েছিল যে আলাদা করে আবেদন করতে হবে না, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তারাই সরাসরি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবে। কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে দুর্নীতির পরিসংখ্যান থেকে শিক্ষা নিয়েই নতুন করে আবেদনপত্র প্রকাশ করা হয়, এবং সেখানেই আবেদনকারীদেরকে বিস্তারিত সব তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হচ্ছে। তবে এক পরিবারে যদি একের বেশি মহিলা থাকে, তাহলে কীভাবে আবেদন করতে হবে? এ নিয়েই বড় কথা শোনালেন অগ্নিমিত্রা পাল।

একটি পরিবারে একটিই ফর্ম

প্রশ্ন ওঠে, একটি পরিবারের একাধিক মহিলা কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন? এ নিয়ে আজ অগ্নিমিত্রা পাল বলেন যে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম যাতে কম না হয় সেটা সরকার দেখছে। একটি পরিবার একটি করেই ফর্ম পাবে। প্রত্যেক মহিলাকে আলাদা করে ফর্ম দেওয়ার দরকার পড়বে না। আর ওই ফর্মের মধ্যেই একাধিক অ্যাকাউন্ট যোগ করার জায়গা রয়েছে। সেক্ষেত্রে বাড়ির মহিলা যারা রয়েছে যেমন শাশুড়ি, বৌমা, মেয়ে, ননদ সবাই ওই একটি ফর্মেই আবেদন করতে পারবে। চারটে আলাদা ফর্ম নেওয়ার দরকার পড়বে না। যারা যোগ্য, তাদের প্রত্যেককেই দেওয়া হবে টাকা।

তবে হ্যাঁ, রাজ্য সরকার তরফ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ না করলে সুবিধা পাওয়া যাবে না। প্রথমত, মহিলার বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। দ্বিতীয়ত, মহিলাকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, এবং এসআইআর-এ নাম বাদ গেলে হবে না। তৃতীয়ত, সেই মহিলা যদি আয়কর দেন বা কোনও সরকারি চাকরি করেন তাহলে সে সুবিধা পাবেন না। তবে একই পরিবারের যদি একের বেশি মহিলা সমস্ত যোগ্যতা পূরণ করেন, তাহলে তারা প্রত্যেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন। তার জন্য একটা ফর্মই যথেষ্ট। আলাদা করে আবেদন করার দরকার নেই।

আরও পড়ুন: হরিনাম সংকীর্তন করায় হিন্দু ব্যবসায়ীকে মারধর বোলপুরে, গ্রেফতার দুই

না বললেই নয়, প্রতিশ্রুতি মতো জুন মাসের ৩ তারিখ থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথম পর্বে মোট ২৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে ঢুকেছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। ফর্ম পূরণ করতে যাদের অসুবিধা হচ্ছে, তাদেরকে সরকারি আধিকারিকরাই সাহায্য করবেন। কিন্তু হ্যাঁ, এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে গেলে অবশ্যই ব্যাঙ্কের সঙ্গে ডিবিটি লিঙ্ক থাকতে হবে। নাহলে টাকা পেতে সমস্যা হতে পারে। আর সেই মহিলার নামে অবশ্যই সিঙ্গল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট থাকলে হবে না। পাশাপাশি আবেদন ফর্মে সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে ইনপুট করতে হবে। নাহলে ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

Leave a Comment