প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: স্কুলের শিক্ষকদের বদলি নীতি নিয়ে শুরু হল মহা বিতর্ক! জানা গিয়েছে, তৃণমূলের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া উৎসশ্রী পোর্টাল (Utsashree Portal) নতুন সরকারের আমলে চালু হলেও এখন আর মিলবে না আপস বদলি! মাথায় হাত পড়ল শিক্ষকদের (Government Teachers)। সম্প্রতি স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, অনুমোদিত পদের ৭০ শতাংশ শিক্ষক কোনও স্কুলে না থাকলে সেখানে বদলির অনুমতি দেওয়া হবে না। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই পোর্টালের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষকদের একাংশ।
উৎসশ্রী পোর্টাল নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
সরকার পোষিত স্কুলে চাকরি করার সুবাদে অনেক শিক্ষক শিক্ষিকার পোস্টিং হয় বাড়ি থেকে বহু দূরে। আর এই বদলির সমস্যা থেকে বাঁচতে বাম আমলে নতুন করে SSC পরীক্ষা দিতে হয় নতুনদের সঙ্গে। এরপর তৃণমূল সরকার বদলির ব্যবস্থা শুরু করে। উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে আপস বদলির পাশাপাশি চালু করা হয় জনস্বার্থ বদলিও। তখন শিক্ষকদের চাকরিজীবনের অন্তত ৫ বছর গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করতে হবে বলে আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই, বদলি প্রক্রিয়াতেও ছিল দুর্নীতি। বহু স্কুলই শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে। আর তারপরই উৎসশ্রীর মাধ্যমে বদলির অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া ২০২২–এর ২৯ সেপ্টেম্বর স্থগিত করা হয়েছিল।
চাইলেই মিলবে না আপস বদলি!
পূর্বতন সরকারের আমলে উৎসশ্রী পোর্টাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। কিন্তু কোনোভাবেই তৎকালীন তৃণমূল সরকার সেই পোর্টাল চালু করেনি। এমতাবস্থায় বিজেপি সরকার রাজ্যের ক্ষমতায় আসতে না আসতেই সেই পোর্টাল পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে সেটি কিন্তু তার পরেও পোর্টাল ঠিক মতো কাজ করছে না বলে অভিযোগ তুলছেন শিক্ষকদের একাংশ। আর এই তর্ক বিতর্কের মাঝেই গতকাল মঙ্গলবার বিধানসভায় স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন শিক্ষক বদলি নিয়ে করলেন চাঞ্চল্যকর মন্তব্য। আর তাই নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে শুরু হল নয়া আতঙ্ক।
আরও পড়ুন: অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে বদলে যাচ্ছে কলেজ স্ট্রিট! বইপাড়া পরিদর্শনে এলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা
এদিন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছিলেন, যে সব স্কুলে অনুমোদিত শিক্ষক পদের ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষক রয়েছেন, শুধুমাত্র সেই স্কুল থেকেই বদলি হওয়া সম্ভব। না হলে কোনও শিক্ষককে বদলির অনুমোদন দেওয়া হবে না। এর পরই শুরু হয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে বিতর্ক। যদিও শিক্ষকদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও অনেকেই আবার বিরোধিতাও করেছেন। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল অভিযোগ করেছেন যে, ‘‘রাজ্যের বহু স্কুলে অনেক বিষয়ে মাত্র একজনই শিক্ষক রয়েছেন। তারা কি কখনও বদলির সুযোগ পাবেন না?’’ যদিও বদলি নীতি নিয়ে প্রশাসন কী ভাবছে, সেটা এখনও চূড়ান্তভাবে জানানো হয়নি।