বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ল ভারতীয় চালের (Indian Rice) রপ্তানি মূল্য। মূলত রুপি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ধানের যোগান নিয়ে উদ্বেগ থাকার কারণেই গত এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে ভারতীয় চালের দাম সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছে (India Rice Export)। রপ্তানিকারকদের একটা বড় অংশের দাবি, পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে দেশের একাধিক রাজ্যে ধানের উৎপাদন অনেকটাই কমেছে। যার প্রভাব একেবারে সরাসরি গিয়ে পড়েছে এশিয়ার চালের বাজারে।
ভারতীয় চালের দামে বড় বদল
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কিছু পরিসংখ্যানে ভারতীয় চালের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি স্পট হয়েছে অনেকটাই। 5 শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চালের রপ্তানি মূল্য টন প্রতি 384 থেকে 389 ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল 378 থেকে 384 ডলারের মধ্যে। অন্যদিকে 5 শতাংশ ভাঙা সাদা চালের দাম প্রতি টন 385 থেকে 390 ডলারের মধ্যে রয়েছে। আসলে ঘরোয়া বাজারে ধানের জোগান সীমিত থাকায় চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুম্বইয়ের এক রপ্তানিকারক।
তবে শুধু ভারত নয়, দাম বেড়েছে ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডের চালেরও। গত বৃহস্পতিবার, থাইল্যান্ডের 5 শতাংশ ভাঙা চাল টন প্রতি 440 থেকে 450 ডলারে বিক্রি হচ্ছিল। যেখানে এক সপ্তাহ আগে এই চালের দাম ছিল টন প্রতি 420 থেকে 430। ডলার। হোচিমিন সিটির এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, “আমরা যা খবর পাচ্ছি ফিলিপাইন আবার ভিয়েতনাম থেকে চাল কেনা শুরু করবে।” ওদিকে ভিয়েতনামের কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, চলতি বছরের বাকি সময়টায় ভিয়েতনামের চাল রপ্তানি বাড়বে।
আরও পড়ুন: জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা, চোরবাগান কাণ্ডের পর কলকাতার একাধিক এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি
চাপ বাড়ছে বাংলাদেশে
প্রধানত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ চালের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে যেখানে প্রিমিয়াম চালের দাম প্রতি কেজিতে 72 টাকা ছিল, সেটা বেড়ে বর্তমানে 74 থেকে 75 টাকা হয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে চালের দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনে। তাঁদের সাংসারিক খরচ বিগত দিনগুলোর তুলনায় কিছুটা হলেও বেড়ে যেতে পারে।