আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বয়স্ক ভাতার (Old Age Pension) জন্য আবেদন করতে গেলে ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফর্মে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাংকের নথি-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তথ্যের মিল থাকা দরকার। তাই তাড়াহুড়ো না করে প্রয়োজনীয় নথি সামনে রেখে ফর্মটি পূরণ করা ভালো। কোন ঘরে কী তথ্য দিতে হবে, তা ধাপে ধাপে জেনে নিন।
আবেদনকারীর নাম
‘নেম অফ অ্যাপ্লিক্যান্ট’ বা আবেদনকারীর নামের ঘরে যাঁর নামে বয়স্ক ভাতার আবেদন করা হবে, তাঁর নাম লিখতে হবে। আধার কার্ড বা অন্য সরকারি পরিচয়পত্রে নামের যে বানান রয়েছে, সেই একই বানান ব্যবহার করতে হবে।
বাবা বা স্বামীর নাম
‘ফাদার্স/হাজব্যান্ডস নেম’ অর্থাৎ বাবার বা স্বামীর নামের ঘরে ফর্ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য লিখতে হবে। বিবাহিত মহিলার ক্ষেত্রে যদি স্বামীর নাম চাওয়া হয়, তাহলে স্বামীর নাম দিতে হবে।
লিঙ্গ
‘জেন্ডার’ বা লিঙ্গের ঘরে আবেদনকারী পুরুষ না মহিলা, তা নির্দিষ্ট অপশনে টিক দিয়ে জানাতে হবে।
জন্মতারিখ বা বয়স
‘ডেট অফ বার্থ’ অর্থাৎ জন্মতারিখের ঘরে আবেদনকারীর সঠিক জন্মতারিখ লিখতে হবে। আর যদি শুধু বয়স জানতে চাওয়া হয়, তাহলে বর্তমানে আবেদনকারীর বয়স দিতে হবে। বয়সের প্রমাণপত্রে যে তথ্য রয়েছে, তার সঙ্গে মিল রেখে এই অংশটি পূরণ করতে হবে।
ঠিকানা
‘অ্যাড্রেস’ বা ঠিকানার ঘরে আবেদনকারীর সম্পূর্ণ ঠিকানা লিখতে হবে। বাড়ি বা হোল্ডিং নম্বর, গ্রাম বা এলাকার নাম, পোস্ট অফিস, থানা, জেলা এবং পিন নম্বর, ফর্মে যতটা তথ্য চাওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী দিতে হবে।
আধার নম্বর
‘আধার নম্বর’ ঘরে আবেদনকারীর নিজের আধার নম্বর লিখতে হবে। আধার কার্ড দেখে প্রতিটি সংখ্যা ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি, যাতে কোনও ডিজিট ভুল না হয়।
ভোটার কার্ডের নম্বর
ফর্মে যদি ‘ভোটার আইডি’ বা ‘ইপিক নম্বর’ চাওয়া হয়, তাহলে আবেদনকারীর ভোটার কার্ডে থাকা ইপিক নম্বরটি লিখতে হবে।
মোবাইল নম্বর
‘মোবাইল নম্বর’ ঘরে আবেদনকারীর ব্যবহার করা ফোন নম্বর দিতে হবে। আবেদনকারীর নিজের মোবাইল না থাকলে, যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত পরিবারের সদস্যের নম্বর দেওয়া যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ফর্মের নিয়ম অনুযায়ী দেখতে হবে।
ব্যাংকের তথ্য
বয়স্ক ভাতার ফর্মে ব্যাংকের তথ্যের অংশটি খুব সাবধানে পূরণ করতে হবে। সাধারণত এখানে ‘ব্যাংক নেম’ অর্থাৎ ব্যাংকের নাম, ‘ব্রাঞ্চ’ অর্থাৎ শাখার নাম, ‘অ্যাকাউন্ট নম্বর’ অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর এবং ‘আইএফএসসি কোড’ দিতে হয়।
অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি কোড লেখার পর ব্যাংকের পাসবইয়ের সঙ্গে আবার মিলিয়ে নেওয়া ভালো। কোনও সংখ্যা ভুল হলে পরবর্তীতে টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আয়ের তথ্য
ফর্মে ‘ইনকাম ডিটেলস’ অর্থাৎ আয়ের তথ্য জানতে চাওয়া হয়। এখানে আবেদনকারী বা পরিবারের আয় সম্পর্কে যে তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে দিতে হবে। সরকারি ফর্মে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া উচিত নয়।
অন্য কোনও পেনশন বা সরকারি সুবিধা পান কি না
ফর্মে আগে থেকে কোনও পেনশন বা সরকারি সুবিধা পাওয়া হয় কি না, তা জানতে চাওয়া হয়ে থাকে এবং ‘ইয়েস’ বা ‘নো’ অপশন থাকে, তাহলে প্রকৃত তথ্য অনুযায়ী সঠিক অপশনে টিক দিতে হবে।
পরিবারের সদস্যদের তথ্য
কিছু ফর্মে পরিবারের সদস্যদের নাম, আবেদনকারীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক বা অন্যান্য পারিবারিক তথ্য জানতে চাওয়া হতে পারে। সেখানে ফর্মে যে তথ্য চাওয়া হয়েছে, সেটিই নির্ভুলভাবে লিখতে হবে।
ডিক্লারেশন বা ঘোষণাপত্র
ফর্মের শেষে সাধারণত ‘ডিক্লারেশন’ বা ঘোষণাপত্র থাকে। সেখানে আবেদনকারী ফর্মে দেওয়া তথ্য সঠিক বলে স্বীকার করেন। এই অংশটি পড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদনকারীর স্বাক্ষর বা নিয়ম অনুযায়ী টিপসই দিতে হবে।
তারিখ ও স্থান
ফর্মে ‘ডেট’ অর্থাৎ তারিখের ঘর থাকলে আবেদন করার তারিখ লিখতে হবে। ‘প্লেস’ অর্থাৎ স্থান চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট স্থান লিখতে হবে।
ফর্ম জমা দেওয়ার আগে যা মিলিয়ে নেবেন
ফর্ম জমা দেওয়ার আগে আবেদনকারীর আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাংকের পাসবই, বয়সের প্রমাণপত্র, পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি পাশে রেখে সমস্ত তথ্য একবার মিলিয়ে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে নামের বানান, জন্মতারিখ বা বয়স, আধার নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি কোড ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিতে হবে।
ফর্মে অনেক কিছুই জানতে চাওয়া হয়। যে যে বিষয়গুলির পাশে স্টার চিহ্ন দেওয়া থাকবে সেগুলিকে পূরণ করতেই হবে। সেগুলি পুরো না করলে টাকা ঢুকবে না। ফর্মটিকে বাতিল ধরে নেওয়া হবে। যেগুলির পাশে স্টার চিহ্ন নেই, সেগুলি চাইলে আপনি পূরণ করতেও পারেন আবার নাও করতে পারেন। তবে আপনার পক্ষে যা যা নথি এবং তথ্য দেওয়া সম্ভব সেগুলি সবই দিন এতে ফর্মটির গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়ে যাবে।
আরও পড়ুন: কমবে যানজট, মা ফ্লাইওভার নিয়ে বড় পদক্ষেপ লালবাজারের
বয়স্ক ভাতার ফর্ম পূরণ করার সময় মূল বিষয় হল, প্রতিটি ঘরে সঠিক এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া। তবে কোন কোন নথি লাগবে বা কোন দপ্তরে ফর্ম জমা দিতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও এলাকার নিয়ম অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তাই ফর্মের নির্দেশিকা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মও দেখে নেওয়া জরুরি।