সহেলি মিত্র, কলকাতা: পুজো নিয়ে কথা হবে আর কোনও বনেদি বাড়ির পুজোর (Bonedi Barir Puja) প্রসঙ্গ উঠবে না, সেটা হতেই পারে না। আজকের এই আর্টিকেলে আপনাদের এমন এক বনেদি বাড়ির শতাব্দী-প্রাচীন পুজো নিয়ে তথ্য দেব যেটি সম্পর্কে জানলে আপনিও অবাক হয়ে যাবেন। বীরভূমের কীর্ণাহার শহরের বাজার থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে নির্জন পরিবেশে রয়েছে প্রাচীন সরকার বাড়ি (Sarkar Bari)। এই সরকারবাড়ির দুর্গাপুজো প্রায় ৩৫০ বছরের পুরনো। স্থানীয়দের কাছে এই পুজো ‘ছোট হাতের দুর্গা’ নামে পরিচিত।
বীরভূমের সরকার বাড়িতে পূজিত হন ‘ছোট হাতের দুর্গা’
জানলে অবাক হবেন, এখানে দেবীর দশটি হাতের মধ্যে দুটি স্বাভাবিক আকারের হলেও বাকি আটটি তুলনামূলক ছোট। এখানে দেবী চামুণ্ডা রূপে পূজিত হন এবং তালপাতার পুঁথি দেখে এখনও পুজোর আচার পালন করা হয়। এখানে একচালার প্রতিমাতেও রয়েছে বিশেষত্ব। কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও মহিষাসুর থাকলেও কার্তিকের বাহন ময়ূর ছাড়া অন্য বাহন দেখা যায় না। আবার সিংহের পরিবর্তে থাকে নরসিংহ।
ইতিহাস জানলে অবাক হবেন
সূত্রের খবর, মহালয়ার পরদিন প্রতিপদ থেকেই ঘটপুজোর মাধ্যমে পুজো শুরু হয়। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন হোম-যজ্ঞ চলে এবং হোমের আগুন জ্বালিয়ে রাখা হয়। নিজস্ব রীতি ও ঐতিহ্য মেনেই আজও কীর্ণাহার সরকারবাড়িতে ‘ছোট হাতের দুর্গা’র আরাধনা হয়ে আসছে। সরকারবাড়ির দুর্গাপুজোও ঐতিহ্য মেনে ধুমধাম করে হয়। প্রতিমার বিশেষত্ব চারটি হাত—দুটি বড় ও দুটি ছোট। কথিত আছে, কিশোরকুমার সরকার স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই বিশেষ রীতিতে প্রতিমা তৈরি ও পুজোর প্রচলন করেন। পরিবারের এক জমিদারের শিকার করা হরিণের চামড়ার আসনে বসে পুজো করার রীতিও এখনও রয়েছে।
আরও পড়ুন: পুজোর মণ্ডপে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানোর চেষ্টা! আতঙ্ক ছড়াল মুর্শিদাবাদে
সরকারবাড়ির মাঠে রয়েছে একতলা দুর্গামণ্ডপ। দালান ও গথিক ধাঁচের জোড়া থাম, নানা রঙের দেবদেবীর চিত্র এবং পুরনো স্থাপত্য মণ্ডপটির বিশেষ আকর্ষণ। পাশেই রয়েছে প্রাচীন ভগ্ন মন্দির। ছাদহীন সেই মন্দির আগাছায় ঢেকে গেলেও মাঝের লাল বেদিটি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। উৎসবের সময় সেখানে দেবদেবীর মূর্তি স্থাপন করে পুজো করার রীতিও প্রচলিত।