=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.

পিয়ন থেকে টেম্পো ড্রাইভার, চারবারের চেষ্টায় UPSC ক্র্যাক মনোজের হলেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার

অনন্যা সরকার, মুম্বাই: ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘১২থ ফেল’ (12th Fail) সিনেমাটি দর্শকমহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এই ছবিটি আইপিএস অফিসার মনোজ কুমার শর্মার (UPSC Success Story of IPS Manoj Kumar Sharma) আইপিএস অফিসার হয়ে ওঠার কঠিন লড়াইয়ের হৃদয়স্পর্শী কাহিনীটি তুলে ধরে, যা দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিল। এই সিনেমাটি মুক্তির পর সারা দেশের মানুষের মুখে মুখে ঘুরতে থাকে মনোজ কুমার শর্মার নাম। সম্প্রতি তিনি মুম্বাই পুলিশের নতুন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (আইন ও শৃঙ্খলা) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। দ্বাদশ শ্রেণিতে ফেল করা এক সাধারণ গ্রামের ছেলে যেভাবে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের জোরে আজ দেশের অর্থনৈতিক রাজধানীর পুলিশি ব্যবস্থার শীর্ষস্থানীয় দায়িত্বে পৌঁছে গেছে, তা বহু যুবকযুবতীর কাছে অনুপ্রেরণাদায়ক। আসুন তাঁর এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক। 

দ্বাদশ শ্রেণিতে ফেল থেকে মুম্বাই পুলিশের নতুন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হয়ে ওঠার যাত্রা 

মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলার বিলগাঁও গ্রামে মনোজ কুমার শর্মার জন্ম। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে বড় হয়ে ওঠা মনোজের ছোটবেলাটা কেটেছে নানা ঝড়ঝাপটার মধ্যে দিয়ে। স্কুল জীবনের পরীক্ষায় কোনক্রমে টেনেটুনে পাস করতেন। নবম ও দশম শ্রেণিতে তৃতীয় বিভাগে পাশ করেন।

তাঁর জীবনের মোড় ঘোরে একটি ঘটনায়। দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় একজন উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বা এসডিএম (SDM) তাঁকে পরীক্ষায় নকল করতে বাধা দেন। ফলে হিন্দি ছাড়া বাকি সব বিষয়েই মনোজ ফেল করেন। এই ঘটনা ও ওই এসডিএম-এর বকুনিই পরবর্তীকালে তাঁর চিন্তাধারা সম্পূর্ণভাবে বদলে দেয়। এরপর স্থানীয় কলেজ থেকে বি.এ. পাস করে মনোজ ইউপিএসসি-এর প্রস্তুতির জন্য দিল্লির মুখার্জি নগরে চলে আসেন। আর্থিক সংকটের কারণে তাঁকে লাইব্রেরিতে পিয়নের কাজ, এমনকি টেম্পো চালানোর মতো ছোটখাটো কাজ করতে হয়।

আরও পড়ুন: বিনা টিকিটে যাত্রী ধরেই আয় ৫২ কোটি, বিরাট সাফল্য পূর্ব রেলের

তাঁর ইউপিএসসি-এর যাত্রাটিও ছিল ব্যর্থতায় ঘেরা। প্রথম চেষ্টায় প্রিলিমস পাশ করলেও মেইনসে ব্যর্থ হন মনোজ। পরের দুটি চেষ্টায় প্রিলিমসেই আটকে যান তিনি। তবু হাল ছাড়েননি। ২০০৫ সালে, চতুর্থ প্রচেষ্টায় মনোজ কুমার শর্মা সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক ১২১ অর্জন করেন ও আইপিএস-এর জন্য নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালের ২২ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আইপিএস অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন।

মনোজ যখন মন প্রাণ ঢেলে দিয়ে ইউপিএসসি-এর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সে সময়েই মনোজের পরিচয় হয় শ্রদ্ধা জোশীর সাথে, যিনি পরবর্তীকালে আইআরএস (IRS) অফিসার হন।  মনোজের কঠিন সময়ে শ্রদ্ধা মজবুত স্তম্ভের মতো পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তাঁদের দুই সন্তান – কন্যা মনুশ্রী ও পুত্র মানসকে নিয়ে সুখের সংসার।

আরও পড়ুন: বাবার অসুস্থতায় কাঁধে তুলে নেয় সংসার, চায়ের দোকান সামলে UPSC-র স্বপ্ন ৩ বোনের চোখে

মহারাষ্ট্র ক্যাডারে নিযুক্ত মনোজ শর্মা সহকারী পুলিশ সুপার (ASP), ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP), মুম্বাইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি ইন্সপেক্টর জেনারেল (IG) পদে পদোন্নতি পান। আর, গত মে মাসে পুলিশি পদের বড়সড় রদবদল হয়, যার অংশ হিসেবে মনোজ কুমার শর্মা মুম্বাই পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (আইন ও শৃঙ্খলা) পদের দায়িত্ব পান।

‘১২থ ফেইল’ সিনেমার মাধ্যমে সারা দেশে পরিচিত হলেন মনোজ কুমার শর্মা

২০২৩ সালে বিধু বিনোদ চোপড়া পরিচালিত অনুরাগ পাঠকের বই অবলম্বনে নির্মিত ‘১২থ ফেল’ সিনেমার মাধ্যমে মনোজ শর্মার গল্প সারা দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই সিনেমার জন্য তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেননি। ‘১২থ ফেল’ মুক্তির পর তাঁর জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তাঁর ১১ লক্ষেরও বেশি অনুসারী রয়েছে এবং তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়ভাবে তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন আপডেট শেয়ার করেন।

“যে লড়াই করে না, হার শুধু তাঁরই হয়”- মনোজ কুমার শর্মার জীবন এই কথাটির জীবন্ত উদাহরণ। দারিদ্র্য, পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা কিংবা একাধিকবার ইউপিএসসি-তে ব্যর্থতা – কোনও কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। আজ তিনি  ছোট শহর থেকে চোখে বড় স্বপ্ন নিয়ে আসা সেই সব প্রার্থীদের কাছে আশার আলো হয়ে উঠেছেন, যারা নিজের যোগ্যতা নিয়ে সংশয়ে থাকেন।

Leave a Comment