সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ প্রকৃতি এবার কোন দিকে মোড় নিচ্ছে? ক্রমশ গরম হচ্ছে গঙ্গার (Ganges) জল। সবথেকে বড় আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি এমন চলতে থাকলে নদীতে লু-এর (Loo) মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গঙ্গার ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি গঙ্গার বাস্তুতন্ত্র, জলজ জীবন এবং এর উপর নির্ভরশীল লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার জন্য একটি বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
গরম হচ্ছে গঙ্গার জল, লু-এর আশঙ্কা!
জলবায়ু পরিবর্তন, কম বৃষ্টিপাত, জলের প্রবাহ হ্রাস, হিমবাহের সংকোচন এবং নদীর তীরে সবুজের অভাবকে এর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে আইআইআইটি হায়দ্রাবাদের হাইড্রোক্লাইমেটিক রিসার্চ গ্রুপ এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গবেষণা চালিয়েছিল। সেই গবেষণা অনুসারে, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে গঙ্গার মধ্যবর্তী অঞ্চলের গড় জলের তাপমাত্রা প্রায় ১.৮৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দার্জিলিং থেকে সুন্দরবনে কর্মসংস্থান-শিল্পায়ন, বাংলায় ২,৩০০ কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা ITC-র
চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন আইআইআইটি হায়দ্রাবাদের বিজ্ঞানী ডঃ রেহানা শাইক। তিনি বলেছেন, এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। এই অক্সিজেন মাছ, জলজ পোকামাকড় এবং অন্যান্য জীবের জন্য জীবনদায়ী। এখন প্রশ্ন উঠছে, নদীতে কীভাবে লু হতে পারে? যখন নদীর জল টানা বেশ কয়েকদিন ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ থাকে, তখন তাকে নদী-তাপপ্রবাহ বলা হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন যদি বর্তমান গতিতে চলতে থাকে, তবে ২০৯০ সালের মধ্যে গঙ্গার অর্ধেকেরও বেশি অংশে তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
প্রভাব পড়বে জীববৈচিত্র্য এবং জীবিকার উপর
বিজ্ঞানীরা বলছেন যে গঙ্গার জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি জীববৈচিত্র্য, পানীয় জলের প্রাপ্যতা, কৃষি এবং মৎস্য খাতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, গত চার দশকে বিশ্বের ৭৮.৮ শতাংশ নদীর অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস পেয়েছে। এর থেকে কি মুক্তির উপায় নেই? বিজ্ঞানীদের মতে, এই সংকট মোকাবেলায় নদীর তীর বরাবর সবুজ বলয় গড়ে তোলা, জলের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, দূষণ কমানো এবং ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ এলাকা রক্ষা করা অপরিহার্য।