“ক্রিকেটের সাধারণ জ্ঞানটুকুও নেই!” ঋষভ পন্থকে তুলোধোনা কাইফের

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গল টেস্টের প্রথম দিন দুর্দান্ত ছন্দে ছিল ভারতীয় দল (Team India)। সেখান থেকে দাপুটে ব্যাটিং করে শেষ পর্যন্ত 462 রান তুলতে পেরেছে টিম ইন্ডিয়া। তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমেছে শ্রীলঙ্কা। তবে ভারতের ইনিংস চলাকালীন ব্যাট হাতে দলে ভরসা জোগাতে এসেও শেষ পর্যন্ত 39 রানে বাজে ভাবে আউট হয়ে যান ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant)। আর তাতেই এবার এই ভারতীয় তারকাকে নিশানা করলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বর্তমান ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ মহম্মদ কাইফ। ব্যাটিং সহায়ক পিচে পন্থ যেভাবে শট খেলতে গিয়ে আউট হলেন তাতে ক্ষুব্ধ এই প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার।

পন্থকে নিশানা করলেন কাইফ

প্রথম টেস্টে ভারতের ইনিংস চলাকালীন শুভমন গিল আউট হয়ে মাঠ ছাড়তেই ব্যাট করতে নামেন ঋষভ পন্থ। দেবদূত পাড্ডিকালের সাথে যোগ দিয়েই মাঠে একপ্রকার ঝড় তোলেন এই ভারতীয় তারকা। দিল্লির এই ক্রিকেটার মাঠে নেমেই চার ছয় মারতে থাকেন। তবে সমস্যা বাড়ে 80 ওভারের পর। শ্রীলঙ্কার বোলাররা নতুন বল পেতেই যেন একেবারে রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন।

সাধারণত, পুরনো বলে ব্যাটসম্যানরা সহজে নিয়ন্ত্রণ পেলেও নতুন বলের ক্ষেত্রে মাঠে আধিপত্য দেখান বোলাররাই। সেই সুবিধাই পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। তবে নতুন বল এলেও ব্যাট হাতে বড় শট খেলার চেষ্টা করছিলেন পন্থ। দেখা গেল শ্রীলঙ্কার বোলারদের জবাব দিতে গিয়ে প্রথম তিন বলে ফরোয়ার্ড শট খেললেন পন্থ। তবে চার নম্বর বলটি খেলতে গিয়ে ফাঁদে পড়লেন তিনি। ওই বলে সুযোগ তৈরি করতে গিয়ে সেটি তুলে খেলেছিলেন ভারতীয় তারকা। তবে শেষ পর্যন্ত লং অফে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। আর ভারতীয় তারকার এই কাজেই ক্ষুব্ধ কাইফ।

টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন সদস্য পন্থের এমন কীর্তিতে তাঁর সাধারণ জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ। কাইফের বক্তব্য, ওই বল তুলে খেলার জায়গায় যদি ডিফেন্ড করে বলের মুভমেন্টটা বুঝে নিতেন তাহলে ভাল হতো। স্টার স্পোর্টসের সাথে কথা বলতে গিয়ে ভারতীয় তারকা বলেন, “ঋষভ পন্থ যেভাবে আউট হয়েছেন তাতে আমার কোনও অভিযোগ নেই। সে এভাবেই খেলে। কিন্তু আমার অভিযোগটা সাধারণ জ্ঞান নিয়ে। ওটা ছিল নতুন বলের প্রথম ওভার। ও ওই ওভারে তিনবার লাফিয়েছে।”

আরও পড়ুন: যুবভারতীতে ভারতীয় সেনাকে হারাল ইস্টবেঙ্গল, সেমিতে কাদের মুখ দেখবে লাল হলুদ?

মহম্মদ কাইফ আরও বলেন, “সাধারণ জ্ঞান থাকলে কাট শট খেলা উচিত। পাঁচ থেকে ছয় ওভার ধরে নতুন বলের দিকে নজর রাখা উচিত। এটাই টেস্ট ম্যাচের ঐতিহ্য। প্রত্যেকে নিজেদের মতো করে খেলে, তবে সবাই সাধারণ জ্ঞানকে কাজে লাগায়। আমি সব থেকে বেশি অবাক হয়েছি, ও ওভারের প্রথম বলেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আরে কিছুটা হিসেব নিকেশ তো করে নিতে হয়। একজন ব্যাটসম্যান 150 রানে থাকলেও সে কয়েকটি ডেলিভারি দেখে খেলে। আমি এ জন্য ওর কিছু নম্বর কেটে নিচ্ছি। ব্যাটিং দেখে বোঝা গেছে, যুক্তি এবং ক্রিকেটিয় বোধের অভাব আছে ওর মধ্যে!”

Leave a Comment